পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিটিআই প্রধান ইমরান খানকে ঘিরে নতুন করে তীব্র গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে তিনি কি আদৌ বেঁচে আছেন? সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে কিছু আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও তার ‘মৃত্যুর খবর’ ছড়িয়ে পড়তে থাকে। তবে পাকিস্তান সরকার ও পিটিআই পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে সবই ভিত্তিহীন, মিথ্যা এবং উদ্দেশ্যমূলক প্রচারণা। ইমরান খান বর্তমানে আদিয়ালা কারাগারের একান্ত সেলে আছেন এবং শারীরিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ।
পাকিস্তানি দৈনিক দ্য ডন–এর বরাত দিয়ে জানা যায়, খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহাইল আফ্রিদি শুক্রবার কারাগারের বাইরে উপস্থিত থাকলেও ইমরান খানের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি পাননি। দায়িত্ব নেওয়ার পর এ পর্যন্ত এটি তার অষ্টমবারের ব্যর্থ চেষ্টা। শুধু তিনিই নন ইমরানের আইনজীবী, চিকিৎসক ও পরিবারের সদস্যদেরও দেখা করার সুযোগ দেওয়া হয়নি। আর এতেই শুরু হয় নতুন জল্পনা ইমরানের শারীরিক অবস্থা কি অবনতি হয়েছে? তাকে কি অন্য কোথাও সরিয়ে নেওয়া হয়েছে?
এই প্রেক্ষাপটে জাপানের একটি পত্রিকা ও বিবিসির প্রতিবেদন গুজবকে আরও উসকে দেয়। সকালে থেকেই সামাজিক মাধ্যমে #ইমরান_খান_কোথায় হ্যাশট্যাগ ট্রেন্ড করতে থাকে।
এদিকে পিটিআই জানায়, ইমরানের ছেলে কাসিম খান আন্তর্জাতিক মহলের কাছে বাবার জীবিত থাকার প্রমাণ পাঠিয়েছেন এবং আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী পরিবারকে সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রানা সানাউল্লাহ এআরওয়াই নিউজকে বলেন, “ইমরান খান ভালো আছেন। তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা–নিরীক্ষায় একটি বিশেষজ্ঞ দল প্রতিদিন কাজ করছে। চিকিৎসা, খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়াম সব কিছুর ওপর নজর রাখা হচ্ছে।
পিটিআই নেতা আলি জাফরও জানান, “মৃত্যুর খবর সম্পূর্ণ মিথ্যা। সরকার যদি সাক্ষাতের সুযোগ দেয়, সবাই নিজ চোখে দেখেই নিশ্চিত হতে পারবেন।” পিটিআই কেন্দ্রীয় তথ্যসচিব ওয়াকাস আকরাম বলেন, “ভারত ও আফগানিস্তান থেকে ভুয়া খবর ছড়ানো হয়েছিল। আমরা তা সঙ্গে সঙ্গে অস্বীকার করেছি। সরকার ইমরান খানের কোনও ক্ষতি করতে পারে না।”
পাকিস্তানের বিভিন্ন সরকারি ও গোয়েন্দা সূত্রও জানাচ্ছে ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল, গুরুতর কোনো জটিলতা নেই। তিনি নিয়মিত চিকিৎসা পাচ্ছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো সব গুজবই ভিত্তিহীন, যা দেশ-বিদেশে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি করছে।

