ইসরাইল–গাজা যুদ্ধের মধ্যেই এক অভিনব ও মানবিক ঘটনা আলোচনায় এসেছে। যুদ্ধের কারণে নিহত ক্যাপ্টেন নেতানেল সিলবার্গের বুক থেকে পরবর্তী জীবনের সম্ভাবনা জন্ম নিয়েছে — তার হবু স্ত্রীর প্রচেষ্টায়, মৃত্যুর মাত্র কিছু সময়ের মধ্যে তার শুক্রাণু উদ্ধার করা হয়, এবং দেড় বছর পর সেই কোষগুলোর মধ্যে থেকে মাত্র ৯টি কার্যকরী শুক্রাণু ব্যবহার করে গর্ভধারণ ও সন্তানের জন্ম সম্ভব হয় বলে খবর পাওয়া গেছে।
ডাঃ হাদাস লেভি, যিনি একজন শিশুবিজ্ঞানী, তার প্রেমিক নেতানেল যুদ্ধে নিহত হলে শোকের মাঝেই এক বিশেষ সিদ্ধান্ত নেন — পোস্টমর্টেম স্পার্ম রিট্রিভাল (PSR) পদ্ধতির মাধ্যমে তাঁর মৃতদেহ থেকে শুক্রাণু সংগ্রহ করার সিদ্ধান্ত। এই পদ্ধতির ক্ষেত্রে সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মৃত্যুর পর অক্সিজেনহীন পরিবেশে শুক্রাণুর কার্যকারিতা দ্রুত কমে যায়।
জেরুজালেমের হাদাসাহ হাসপাতাল-এ ডাঃ লেভি এবং তার সহকর্মীরা প্রায় দশ ঘণ্টা ধরে কাজ চালান। তারা শরীর থেকে টিস্যু সংগ্রহ করেন এবং তা ল্যাবরাতে পরীক্ষা করে মাত্র ন’টি সক্রিয় / চলন্ত শুক্রাণু খুঁজে পান। এই সংখ্যাটি অনেক কম হলেও, তারা এগুলো সংরক্ষণ করে ও পরবর্তী গর্ভধারণের পরিকল্পনা শুরু করেন।
মৃত প্রেমিকের শুক্রাণু ব্যবহারের ক্ষেত্রে আইনি ও নৈতিক প্রশ্ন সামনে আসে। নেতানেল এবং হাদাস লেভি তখন বিবাহিত ছিলেন না, ফলে আইনগত অধিকার ও সম্মতি কীভাবে হবে, সেটি বিতর্কিত হয়েছিল। অনেক দেশে এই ধরনের PSR পদ্ধতি নিয়ে কঠোর সীমাবদ্ধতা বা নিষিদ্ধতা রয়েছে।
ইসরাইলের ক্ষেত্রে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একটি গাইডলাইন অনুসরণ করে, যেখানে মৃত ব্যক্তি থেকে শুক্রাণু সংগ্রহ এবং ব্যবহারের জন্য বিশেষ শর্ত নির্ধারিত আছে।
উদাহরণস্বরূপ, স্লাইস করা টেস্টিকুলার টিস্যু ল্যাবে পরীক্ষা করে যদি জীবিত শুক্রাণু পাওয়া যায়, তাহলে তা “ক্রায়ো-সংরক্ষণাগারে” রাখা যায়। তবে পরবর্তী ব্যবহারের ক্ষেত্রে পারিবারিক আদালত থেকে অনুমোদন প্রয়োজন হতে পারে।
সামাজিক দৃষ্টিকোণেও এটি গম্ভীর প্রশ্ন তুলেছে: ব্যক্তির মৃত্যুতে তার জেনেটিক উত্তরাধিকার কে ধারন করতে পারে — প্রেমিকা, বাবা-মা, পার্থক্য কী হবে?
বাস্তবতায়, অনেক ক্ষেত্রে আদালত যাচাই করে দেখেছে মৃতের ইচ্ছা বা সম্মতি ছিল কি না।
সব বাধা সত্ত্বেও, লেভি এবং তার চিকিৎসক দল IVF (in vitro fertilization) পদ্ধতি প্রয়োগ করেন। দেড় বছর পর, তারা মা হওয়ার পথে এগোতে সক্ষম হন এবং এক পুত্রসন্তান গর্ভবতী হন। লেভি একবার বলেছিলেন, “এটা যেন বিজ্ঞান কল্পকাহিনির মতো — একটি অলৌকিক ঘটনা।”
PSR পদ্ধতির ধারণা ইতিমধ্যেই কয়েক দশক পুরনো।
ল্যাবরেটে টিস্যু থেকে শুক্রাণু পুনরুজ্জীবন এবং সঞ্চয় করার জন্য বিশেষ মাইক্রোস্কোপিক ও ক্রায়ো প্রযুক্তি দরকার।
মৃত ব্যক্তির দেহ থেকে নেওয়া টিস্যু যত দ্রুত প্রক্রিয়াজাত করা হয়, সফলতার সম্ভাবনা তত বেশি।
এরপর সংরক্ষিত শুক্রাণু IVF-এর মাধ্যমে ডিম্বাণুর সঙ্গে মিলিত করা হয়, যাতে গর্ভধারণ সম্ভব হয়।
এই ঘটনা শুধু একটি মেডিক্যাল সাফল্যই নয়, বরং গাজা যুদ্ধে মৃত সেনাদের পরিবার, বিশেষ করে তাদের প্রিয়জনদের জন্য “উত্তরাধিকার ও স্মরণ” নিয়ে একটি নতুন দৃষ্টান্ত গড়েছে। তবে সেটা সহজ ছিল না — আইনি অনুমোদন, সামাজিক স্বীকৃতি এবং ব্যক্তিগত শোক সবই একসাথে কাজ করেছে।
অন্যদিকে, সাধারণ জনমতও বিভাজিত: কিছু মানুষ বলেন, মৃত ব্যক্তির স্বীকৃত সম্মতি না থাকলে এটি অনৈতিক। অন্যরা যুদ্ধে মৃতদের “জনকত্ব বজায় রাখার” ইচ্ছাকে মানবিকভাবে স্বীকৃতি দিতে চান।
যত যুদ্ধ আরও মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তত PSR-এর চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে প্রযুক্তিগত সক্ষমতা যদিও রয়েছে, তার সঙ্গে নৈতিক ও আইনগত কাঠামো আরও স্পষ্ট করার প্রয়োজন রয়েছে।
ইসরাইল ইতিমধ্যেই বিশেষ নির্দেশিকা চালু করেছে, কিন্তু সমসাময়িক সামাজিক ও ধর্মীয় প্রশ্ন এখনও পুরোপুরি সমাধান হয়নি। বিশ্বব্যাপী ও দেশের ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থাকায় PSR-এর আইনগত স্বীকৃতি ও প্রয়োগ সীমা পরিবর্তন হতে পারে।

