রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে অনুভূত শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। আহত হয়েছেন আরও ছয় শতাধিক মানুষ। নরসিংদীর মাধবদীকে কেন্দ্র করে রিখটার স্কেলে ৫.৭ মাত্রার এ ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি পাঁচজন প্রাণ হারান নরসিংদীতে। ঢাকায় চারজন এবং নারায়ণগঞ্জে একজনের মৃত্যু হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে এবং রাজধানী থেকে মাত্র ২৫ কিলোমিটার দূরে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস ভূমিকম্পটির মাত্রা ৫.৫ বলে উল্লেখ করেছে।
কম্পনে ঢাকা ও নরসিংদীসহ বিভিন্ন এলাকায় দেয়াল ধসে পড়ে আহত হন বহু মানুষ। বেশ কিছু ভবনে ফাটল সৃষ্টি হয়েছে এবং কোথাও কোথাও জমি দেবে গেছে। আতঙ্কে ভবন থেকে দ্রুত নেমে আসতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে।
নিকেতন এলাকার বাসিন্দা আশরাফুল আলম বলেন, “চেয়ার কাঁপতে শুরু করায় মনে হলো পড়ে যাব। বাইরে বের হয়ে দেখি সবাই আতঙ্কে দৌড়াচ্ছে।”
বিশ্ব ভূতাত্ত্বিক বিশেষজ্ঞদের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশের প্রায় ৭ কোটি মানুষ ভূমিকম্পের কম্পন টের পেয়েছেন। শক্তিশালী কম্পন বিশেষভাবে অনুভূত হয়েছে ঢাকা ও আশপাশের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকাজুড়ে।
ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা বলেন, ঢাকার এত কাছাকাছি আগে এমন শক্তিশালী কম্পন রেকর্ড হয়নি। তাদের মতে, ভূমিকম্পের পুনরাবৃত্তির ঝুঁকি বিবেচনায় এখনই ভবন নিরাপত্তা এবং উদ্ধার সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা জরুরি।
রাজউকের সাম্প্রতিক গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, ঢাকায় বড় মাত্রার ভূমিকম্প হলে বিপুলসংখ্যক ভবন ধসে পড়তে পারে। বিশেষত নব্বইয়ের দশকের পর নিম্নভূমি ভরাট করে গড়ে ওঠা এলাকা— যেমন হাজারীবাগ, শ্যামলী, ঢাকা উদ্যান, পূর্বাচল, উত্তরা ও বালু নদ সংলগ্ন অঞ্চলগুলোকে উচ্চঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

