অমৃত জ্যোতি(মধ্যনগর)সুনামগঞ্জ:
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার সাথে সম্পৃক্ত সকল নদীই ফেটে গিয়ে চৌচির হয় প্রতি শুকনোর মৌসুমে।যার দরুন প্রত্যেক জনমনে প্রশ্ন রয়েছে “মধ্যনগরের নদী খনন হবে কবে?”
মধ্যনগরের শতবর্ষের ইতিহাসে নদীখননের কোন উদ্যোগ ছিল না। আদৌ আর হবে কিনা এমনটাই প্রশ্ন বিরাজ করছে স্থানীয় জনমানুষের মনে।
বর্ষায় মধ্যনগরস্থ সুমেশ্বরী নদীতে ভরা যৌবন দেখা দিলেও হেমন্তের শুরুথেকেই নদীর পানি কমেগিয়ে বসন্তে নদীর তলদেশ শুকিয়ে ফাটা স্থানে জন্মনেয়া ঘাস গবাদিপশুর খাদ্য যোগায়।
ভারত মেঘালয় থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে অসংখ্য ছড়াদিয়ে নেমেআসা বালিতে সকল নদীই ভরাট হয়ে খালে পরিনিত হয়েছে।নদীর একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মোহনায় জেগেছে বালুময় বিশাল বিশার চর।
রবি ঠাকুরের কবিতায়-
“আমাদের ছোট নদী,চলে বাঁকে বাঁকে,
বৈশাখ মাসে তার হাঁটু জল থাকে”
এযেন কবির ভাষাকে হাড়মানিয়ে মনে করিয়ে দেয় মধ্যনগরের সুমেশ্বরীর নাব্যতার কথা।বৈশাখে হাটু জলের বদলে পৌষের শুরুতেই ভেসে উঠে এমন চিত্র।শুকনোর মৌসুমে অগ্নিকান্ড দুর্ঘটনা থেকে রেহাই পেতে পাওয়া যায় না’পানি।এযেন বিধাতার দেয়া কোন অভিশাপ।
চরপড়া বালুময় নদীতে নাব্যতার দরুন পণ্যবাহী নৌযানের ঝটলা বাঁধে প্রায় ৫কিলোমিটার দৈর্ঘের।মধ্যনগরে হুলাকান্দা বাজার থেকে মধ্যনগর সেতু,আখড়াঘাট হয়ে জমশেপুর টানা ঘাট পর্যন্ত রয়েছে বালুময় চর।এসব চরদিয়ে বাজারের বভিন্ন হাট বসা ও পায়ে হেঁটেও নদী পারাপার হতে দেখা যায় প্রতি বৎসরেই।
নাব্যতার সংকটের কারণে পাহাড়ি ঢলে নদী ভরাট হয়ে আগাম বন্যায় ফসল তলিয়ে যায় প্রায় বছরেই।ভাটি এলাকার একফসলি নির্ভরক কৃষকের বোরোধান’কে আগাম বন্যার কবল থেকে রেহাই।ও নদীপথে যাতায়াত, পণ্য সরবরাহের নৌযান শ্রমিক বাঁচাতে একমাত্র প্রয়োজন দ্রুত নদী খনন।এর কোন কোন বিকল্প নেই বলে জানিয়েছেন স্থানরা।নদী খননের মাধ্যমে ভাটি এলাকার আগামবন্যা,নৌযোগাযোগ,সহ প্রকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় যথাযথ কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কমনা করেছেন এলাকার সচেতন মহল।
এবিষয়ে সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃমামুন হাওলাদার আমার সংবাদকে বলেন,পাহাড় থেকে নেমে একাধিক নদীখন্নের প্রস্তাবনা উর্ধ্বতনে পাঠিয়েছি।এর মধ্যে সুমেশ্বরী নদীও রয়েছে,অনুমোদন হলেই কার্য্যক্রম শুরু হবে আশা করছি।

