মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের রায় দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই রায় কেবল বিচারিক সিদ্ধান্ত নয়; এটি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক বাস্তবতাকেও প্রভাবিত করবে।
সোমবার পুনর্গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গত বছরের জুলাই–অগাস্টের ঘটনায় দায়ের হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এই রায় ঘোষণা করে। অভিযোগ গঠন থেকে রায় পর্যন্ত সময় লেগেছে মাত্র চার মাস সাত দিন। রায়কে ‘পক্ষপাতদুষ্ট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছেন শেখ হাসিনা।
রায়ের পরপরই জাতিসংঘ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এবং হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের প্রশ্ন—বিচার প্রক্রিয়াটি কি আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী হয়েছে?
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক সাব্বির আহমেদ মনে করেন, এই রায় দেশের রাজনৈতিক মেরুকরণ আরও বাড়িয়ে দেবে। তাঁর মতে, আইনের সাম্প্রতিক সংশোধনের কারণে শুধুমাত্র শেখ হাসিনা নন, আনুষ্ঠানিক অভিযোগ থাকা আওয়ামী লীগ নেতারাও আসন্ন নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ হারাতে পারেন। এতে দলটির রাজনৈতিক অবস্থান আরও দুর্বল হবে বলে মনে করছেন তিনি।
অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জোবায়দা নাসরীন মনে করেন, রায়কে ঘিরে আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া—বিশেষ করে ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও রাশিয়ার অবস্থান—বাংলাদেশের রাজনীতির পথনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক আবদুল লতিফ মাসুম বলেন, রায়টি ভারতের জন্য বিব্রতকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। তাঁর মতে, ভারতের মাটিতে বসে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক কার্যক্রমও এখন সীমিত হয়ে পড়বে।
তিনি আরও মনে করেন, এই রায়ের ফলে আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ নিয়ে পূর্বের সব আলোচনা কার্যত শেষ হয়ে গেছে।
সার্বিকভাবে, বিশ্লেষকদের মূল্যায়ন—রায়ের ফলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ তৈরি হবে; বিরোধী দল নৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী অবস্থানে যাবে এবং রায়ের প্রভাব আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও দীর্ঘদিন স্থায়ী হবে।

