বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব অধ্যায় শুরু হলো। আজ সোমবার, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ জুলাই মাসের গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। এটি ট্রাইব্যুনালের প্রথম রায়।
বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণা করেন। রায়ে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ও পুলিশের সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনকেও আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলাটি জটিল। প্রধান আসামি হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান বর্তমানে ভারতে পলাতক। প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম জানান, রায় ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে আপিল করতে হলে আসামিকে গ্রেপ্তার বা আত্মসমর্পণ করতে হবে। পালিয়ে থাকা অবস্থায় কোনো আইনি সুবিধা নেই।
রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, হাসিনা ছিলেন মানবতাবিরোধী অপরাধের ‘মাস্টারমাইন্ড’ এবং ‘সুপিরিয়র কমান্ডার’। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে তাঁর নির্দেশেই ‘লেথাল উইপন’ ব্যবহার করে দেড় হাজার মানুষ নিহত এবং ৩০ হাজার আহত হয়। প্রসিকিউশন আদালতে হাসিনার ভয়েস রেকর্ডও দাখিল করেছে, যেখানে নিজ মুখে ‘মারণাস্ত্র ব্যবহারের’ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া একমাত্র আসামি, সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, রাজসাক্ষী হয়ে স্বীকার করেছেন যে, তিনি প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন দমন করেছেন।
রাষ্ট্রপক্ষ পাঁচটি গুরুতর অভিযোগ প্রমাণের দাবি করেছে—উসকানিমূলক বক্তব্য, প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ, আবু সাঈদসহ ছয়জন এবং আশুলিয়ায় ছয়জনকে হত্যা এবং একজনকে জীবিত পুড়িয়ে দেওয়া। প্রসিকিউশন সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড চেয়েছে এবং আসামিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে শহীদ পরিবার ও আহত আন্দোলনকারীদের মধ্যে হস্তান্তরের আবেদন করেছে।
ট্রাইব্যুনাল যেকোনো আদেশই দিন না কেন, প্রসিকিউশন তা মেনে নেবে। তবে রায় কার্যকর হলে পলাতক হাসিনার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলে ‘কনভিকশন ওয়ারেন্ট’ আবেদন করা হবে।
আজকের এই রায় কি ইতিহাসের সমাপ্তি, নাকি নতুন অধ্যায়ের সূচনা—সমস্ত দেশের দৃষ্টি এখন এই প্রশ্নের দিকে।

