Bangla FM
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • বিশ্ব
  • সারাদেশ
  • বিনোদন
  • খেলাধুলা
  • কলাম
  • ভিডিও
  • অর্থনীতি
  • ক্যাম্পাস
  • আইন ও আদালত
  • প্রবাস
  • বিজ্ঞান প্রযুক্তি
  • মতামত
  • লাইফস্টাইল
No Result
View All Result
Bangla FM

বাঁশের ভেলায় ভাসছে পাহাড়ি জনপদের মানুষের জীবন ও জীবিকার স্বপ্ন

Taslima TanishabyTaslima Tanisha
১:৪৩ pm ০৯, নভেম্বর ২০২৫
in সারাদেশ
A A
0

আমিনুল ইসলাম খন্দকার, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বান্দরবান:

বান্দরবানের লামা উপজেলার মাতামুহুরী নদীর তীরে গড়ে উঠেছে অনন্য এক বাঁশের হাট। এখানে প্রতিদিন বিক্রি হয় হাজার হাজার বাঁশ, যার লেনদেনের পরিমাণ লাখ টাকায় পৌঁছে যায়। স্থানীয় পাহাড়ি জনগোষ্ঠী ও আশপাশের এলাকার মানুষ এই বাঁশের ব্যবসার ওপর নির্ভরশীল। সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে দূরদূরান্ত থেকে পাইকাররা আসেন বাঁশ কিনতে, যা পরে যায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। বাঁশের এই হাট শুধু অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড নয়, এটি স্থানীয় সংস্কৃতি ও জীবিকারও গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

লামার মাতামুহুরী নদীতে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, নদীতে ভাসছে সারি সারি বাঁশের ভেলা। খটখট শব্দে বাঁশের ভেলা বানাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন শ্রমিকরা। লামামুখ মাতামুহুরী নদীর ঘাটে সারি সারি সাজিয়ে রাখা হয়েছে বাঁশের ভেলা। নদীপারের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ক্রেতা ও বিক্রেতারা দরকষাকষিতে ব্যস্ত। শ্রমিকরা ব্যস্ত এলোমেলোভাবে ভেসে থাকা বাঁশের নতুন ভেলা বানাতে। লামামুখ নদীর ঘাট লামা খাল ও পোপা খালের সংযোগ স্থল। খালগুলো থেকে ভেসে আসছে বিভিন্ন প্রজাতির বাঁশের সারি। দেখা মনে হয় নদীর পানিতে থাকা বাঁশের ভেলায় ভাসছে পাহাড়ি জনপদের মানুষের জীবন ও জীবিকার সপ্ন।

মুলি, মিটিংগ্যা, ডলু, বরাক, বাজালি, নলি, কালিছড়ি, টেংরামূলি, বাড়িওয়ালা, ওরাহ ও বাইজ্জা বাঁশসহ প্রায় ৩০ প্রজাতির বাঁশ বান্দরবানের বিভিন্ন পাহাড়ে হয়ে থাকে। এসকল বাঁশ বিক্রির মাধ্যমে পার্বত্য এলাকায় বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষ জীবন জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। এসব বাঁশের চাহিদা সারাদেশের পাশাপাশি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সরবরাহ হয়ে থাকে। যা থেকে লামা বন বিভাগ প্রতি বছর কয়েক লক্ষ টাকা রাজস্ব পেয়ে থাকে।

লামা বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গত অর্থ বছরে শুধুমাত্র লামামুখ বন চৌকি থেকে লামা বন বিভাগ রাজস্ব আদায় করেছে ১০ লাখ ৭ হাজার ৪১০ টাকা। চলতি অর্থ বছরে দুই মাসে লামা বন বিভাগ আদায় করেছে ১ লাখ ৯২ হাজার ৫৪০ টাকা। বন বিভাগের মতে বাঁশ অ-প্রধান বনজ দ্রব্য। সরকার নির্ধারিত বাজালী,ছোটিয়া, নলি প্রতি হাজারে ৮০০ টাকা, কালিছড়ি প্রতি হাজারে এক হাজার টাকা, টেংরামূলি প্রতি হাজারে এক হাজার ২০০ টাকা, মূলি প্রতি হাজারে দুই হাজার ৮০০ টাকা, মিতিংগা ও ডলু প্রতি হাজারে তিন হাজার টাকা, বাড়িওয়ালা প্রতি হাজারে দশ হাজার টাকা এবং ওরাহ প্রতি হাজারে তিন হাজার ৪০০ টাকা রাজস্ব আদায় করা হয়। এছাড়া অ-প্রধান বনজ দ্রব্যের ভ্যাট ১৫ শতাংশ হারে আদায় করা হয়।

প্রতি সাপ্তাহে একবার বান্দরবানের লামায় মাতামুহুরী নদীর বিভিন্ন বাজার সংলগ্ন ঘাটে বাঁশ কিনতে আসেন দেশের বিভিন্ন এলাকার বাঁশ ব্যবসায়ীরা। তারা সেই বাঁশ মাতামুহুরী নদীতে ভাসিয়ে অথবা সড়ক পথে সারাদেশে বাঁশ নিয়ে যায়। কক্সবাজারের চকরিয়া থেকে আগত বাঁশ ব্যবসায়ী আবদুল মোনাফ বলেন, পাহাড়ি এলাকার বাঁশ গুনে মানে খুবই ভালো। লামা পাহাড়ি এলকা হওয়ায় এখানে সকল প্রজাতির বাঁশ পাওয়া যায়। আমার বাবা ও দাদা এ বাঁশ ব্যবসার সাথে সম্পৃক্ত ছিলো। বর্তমানে আমিও বংশ পরম্পরায় এই ব্যবসার সাথে আছি।

বর্তমানে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বাঁশের সরবরাহ কমা থাকায় ও বন বিভাগের অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়ের অভিযোগে লোকসান গুনছেন বাঁশ ব্যবসায়ীরা।

লামামুখ এলাকার বাঁশ ব্যবসায়ী মোহাম্মদ নুরু বলেন, আমাদের এলাকার বাঁশের চাহিদা সবচেয়ে বেশি রোহিঙ্গা ক্যাম্প। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চাহিদা ও সরবরাহ স্বাভাবিক থাকলে লামার বাহির থেকে ব্যবসায়ীরা এসে বাঁশ সঠিক দাম দিয়ে ক্রয় করে থাকে। রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চাহিদা কমে গেলে বাঁশের সঠিক দাম পাওয়া যায় না। তাছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে বাঁশের চাহিদা কমায় আগের মতো ব্যবসা ভালো যাচ্ছে না।

লামা সদর ইউনিয়নের মেহুলারচর এলাকার বাঁশ ব্যবসায়ী মো. তাজুল ইসলাম বলেন, এক সময় বাঁশের ব্যবসা খুবই লাভজনক ছিলো। আমরা বাঁশ ব্যবসায়ীরা আগের মতো ভালো নেই। ব্যবসা আগের মতো হচ্ছে না। বাঁশ পরিবহনের সময় ঘাটে ঘাটে আমাদের বিভিন্ন খচর করতে হয়। সেই সাথে বন বিভাগের অতিরিক্ত রাজস্ব তো আছেই। সরকার রাজস্ব কিছুটা কমালে আমাদের জন্য সুবিধা হতো।

অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করে লামা বন বিভাগের সদর রেঞ্জের রেঞ্জ অফিসার
এ. কে. এম. আলতাফ হোসেন বলেন, সরকারের নির্ধারিত রাজস্ব ছাড়া অতিরিক্ত টাকা আদায়ের সুযোগ নেই। বাঁশ ব্যবসায়ীদের সহযোগিতার পাশাপাশি স্থানীয়দের বাঁশ চাষে উৎসাহ দিচ্ছে লামা বন বিভাগ।

বর্তমানে পাহাড়ে জনবসতি বৃদ্ধি পাওয়ায় পাহাড় কেটে বিপুলসংখ্যক মানুষ ঘরবাড়ি তৈরি করছে। অনেকে পাহাড়ে আগুন দিয়ে জঙ্গল পুড়িয়ে জুম চাষ করছেন। এসব কারণে বাঁশের প্রাকৃতিক উৎপাদন বহুলাংশে হ্রাস পাচ্ছে। এছাড়াও পাহাড়ে বসবাসকারী শতশত দরিদ্র নারী পাহাড় থেকে বাঁশের কড়ল (বাঁশের চারা) কেটে এনে বাজারে বিক্রি করছেন। বিপুলসংখ্যক মানুষ বাঁশ কড়ুল সবজি হিসেবে খেয়ে থাকেন। কড়ুল কেটে ফেলায় বাঁশ উৎপাদনও হ্রাস পাচ্ছে।

স্থানীয়রা মনে করছেন, পাহাড়ি এলাকায় সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় স্থানীয় পর্যায়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প কারখানা গড়ে উঠা এখন সময়ের দাবি। তাহলে বাঁশের বহুমুখী ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব।

ShareTweetPin

সর্বশেষ সংবাদ

  • অনলাইনে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়ার অনুরোধ জানাল বিএমইউ কর্তৃপক্ষ
  • নলছিটিতে ১,৭০০ কেজি ঝাটকা জব্দ, ৩ জনকে জরিমানা
  • দিনাজপুরে জ্বালানি সংকট, দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে তেল না পেয়ে হতাশ বাইকাররা
  • প্রধানমন্ত্রী সিলেট যাবেন ৩০ এপ্রিল
  • ইরান যুদ্ধে সমর্থন না পাওয়ায়, ন্যাটো থেকে বের হওয়ার বিষয় গুরত্বসহকারে ভাবছেন ট্রাম্প

প্রকাশক: আনোয়ার মুরাদ
সম্পাদক: মো. রাশিদুর ইসলাম (রাশেদ মানিক)
নির্বাহী সম্পাদক: মুহাম্মদ আসাদুল্লাহ

বাংলা এফ এম , বাসা-১৬৪/১, রাস্তা-৩, মোহাম্মদিয়া হাউজিং লিমিটেড, মোহাম্মদপুর, ঢাকা, বাংলাদেশ

ফোন:  +৮৮ ০১৯১৩-৪০৯৬১৬
ইমেইল: banglafm@bangla.fm

  • Disclaimer
  • Privacy
  • Advertisement
  • Contact us

© ২০২৬ বাংলা এফ এম

Welcome Back!

Login to your account below

Forgotten Password?

Retrieve your password

Please enter your username or email address to reset your password.

Log In

Add New Playlist

No Result
View All Result
  • সর্বশেষ
  • জাতীয়
  • রাজনীতি
  • বিশ্ব
  • সারাদেশ
  • বিনোদন
  • খেলাধুলা
  • প্রবাস
  • ভিডিও
  • কলাম
  • অর্থনীতি
  • লাইফস্টাইল
  • ক্যাম্পাস
  • আইন ও আদালত
  • চাকুরি
  • অপরাধ
  • বিজ্ঞান প্রযুক্তি
  • ফটোগ্যালারি
  • ফিচার
  • মতামত
  • শিল্প-সাহিত্য
  • সম্পাদকীয়

© ২০২৬ বাংলা এফ এম