চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে (জুলাই–অক্টোবর) প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ ১০ দশমিক ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে। দেশীয় মুদ্রায় (প্রতি ডলার ১২২ টাকা ৫০ পয়সা হিসেবে) এর পরিমাণ এক লাখ ২৪ হাজার ৩২২ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ (২ নভেম্বর) প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় রেমিট্যান্স বেড়েছে ১৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ। আগের অর্থবছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স এসেছিল ৮ দশমিক ৯৩ বিলিয়ন ডলার।
শুধু অক্টোবর মাসেই দেশে এসেছে ২ দশমিক ৫৬ বিলিয়ন (২৫৬ কোটি ৩৪ লাখ) মার্কিন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৬ কোটি ৮৪ লাখ ডলার বেশি। ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে রেমিট্যান্স এসেছিল ২ দশমিক ৩৯ বিলিয়ন ডলার।
মাসভিত্তিক রেমিট্যান্স প্রবাহ (২০২৫–২৬ অর্থবছর):
জুলাই: ২.৪৮ বিলিয়ন ডলার
আগস্ট: ২.৪২ বিলিয়ন ডলার
সেপ্টেম্বর: ২.৬৮ বিলিয়ন ডলার
অক্টোবর: ২.৫৬ বিলিয়ন ডলার
বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে রেমিট্যান্স পাঠানো প্রবাসীদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। হুন্ডি প্রতিরোধে সরকারের নজরদারি, প্রণোদনা বৃদ্ধি এবং ব্যাংকিং সেবার ডিজিটালাইজেশনের ফলে প্রবাসী আয়ে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
বৈধ পথে প্রবাসী আয় বাড়ায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে স্বস্তি ফিরেছে। একই সঙ্গে ডলারের জোগান কিছুটা স্থিতিশীল হয়ে আমদানি ব্যয় মেটাতেও সহায়তা করছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, আগের অর্থবছর (২০২৪–২৫) শেষে দেশে প্রবাসী আয় এসেছিল ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার—যা দেশের ইতিহাসে এক অর্থবছরে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স প্রবাহ। তার আগের অর্থবছরে (২০২৩–২৪) রেমিট্যান্স ছিল ২৩ দশমিক ৭৪ বিলিয়ন ডলার।

