মাহফুজুল হক পিয়াস, ইবি:
ঢাকায় আন্দোলনরত প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) প্রকৌশল অনুষদের শিক্ষার্থীরা।
বুধবার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় জিয়া মোড় থেকে ‘প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলন’-এর ব্যানারে মিছিলটি শুরু হয়। পরে এটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে প্রধান ফটকে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
বিক্ষোভে শিক্ষার্থীরা ‘জেগেছে রে জেগেছে, ছাত্র সমাজ জেগেছে’; ‘কোটা না মেধা, মেধা মেধা’; ‘জনে জনে খবর দে, ডিপ্লোমা কোটার কবর দে’; ‘সবার মুখে এক বয়ান, ডিপ্লোমারা টেকনিশিয়ান’; ‘ওয়ান টু থ্রি ফোর, ডিপ্লোমা কোটা নো মোর’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেন। এছাড়া তিন দফা দাবি আদায়েও বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায় তাদের।
শিক্ষার্থীদের মূল তিন দফা দাবি হলো
১. সহকারী প্রকৌশলী (নবম গ্রেড): কেবল ন্যূনতম বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রিধারীদের নিয়োগ, কোনো কোটা বা বিকল্প পদ সৃষ্টি নয়।
২. উপসহকারী প্রকৌশলী (দশম গ্রেড): ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার ও একই ডিসিপ্লিনে উচ্চতর ডিগ্রিধারী বিএসসি গ্র্যাজুয়েটদের জন্য নিয়োগ পরীক্ষার সুযোগ।
৩. প্রকৌশলী পদবি সুরক্ষা: বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং ছাড়া কেউ প্রকৌশলী পদবি ব্যবহার করতে পারবে না; নন-অ্যাক্রিডেটেড কোর্স দ্রুত আইইবি-বিএইটিই স্বীকৃতির আওতায় আনতে হবে।
সংক্ষিপ্ত সমাবেশে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রাহাত রেজা বলেন, “আমাদের তিন দফা দাবিতে ঢাকায় লং মার্চের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ বাহিনী ন্যাক্কারজনকভাবে হামলা করেছে। আমরা এই হামলার বিচার চাই। স্বরাষ্ট্র ও শিক্ষা উপদেষ্টাকে এই হামলার জন্য জবাবদিহি করতে হবে। সেই সাথে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে আমাদের তিন দফা দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানাই।”
শিক্ষার্থীরা হুঁশিয়ারি দিয়ে আরো বলেন, “আমাদের তিন দফা দাবি ও হামলার বিচার না হলে আমরা সড়ক অবরোধ করতে বাধ্য হবো।”
উল্লেখ্য, এর আগে তিন দফা দাবি আদায়ে বুধবার সকাল ১১টার দিকে পূর্বঘোষিত ‘লং মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন শুরু করেন প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। দুপুর ১টা ৪০ মিনিটের দিকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনা অভিমুখে মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ লাঠিচার্জ, সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদুনে গ্যাস ছুড়ে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ ঘটনায় অন্তত ৬০জন শিক্ষার্থী আহত হন বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের।