মো: সিয়াম আবু রাফি
জবি প্রতিনিধি:
জগন্নাথ কলেজ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় কার্যক্রম শুরুর ২০ বছরে পদার্পণ করলেও এখন অবধি নেই ছেলেদের জন্য নিজস্ব কোন হল,মেয়েদের জন্য একটি হল থাকলেও সেটি পর্যাপ্ত নয়। প্রশাসনের নেই কোন কার্যকরী পদক্ষেপ।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ২০ হাজারের অধিক শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত, অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলে শিক্ষার্থীদের জন্য নেই নিজস্ব কোন হল, বছরের পর বছর ধরে হলের অভাবে ভাড়া বাসায়, মেসে বসবাস করছে বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা। পুরান ঢাকার মালিকরা ইচ্ছেমতো ভাড়া বাড়াচ্ছেন, আবার নানা অজুহাতে শিক্ষার্থীদের হয়রানি করছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরেই এ সমস্যার সমাধানে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি।ফলে অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতে হচ্ছে, যেখানে খরচ, অনিরাপত্তা আর মানসিক চাপ নিত্যসঙ্গী।
পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মালিকরা ইচ্ছেমতো ভাড়া আদায় করছেন। অনেক সময় মাসে একবারের বেশি ভাড়া তোলা হয়, আবার কয়েক মাসের অগ্রিমও দাবি করা হয়। প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শিক্ষার্থীরা ভর্তি হয় এই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে, এই সুযোগে পুরান ঢাকার বাসার মালিকরা ভাড়া বাড়ানো, বিশাল অঙ্কের অগ্রিম জমা, নানাবিধ শর্ত আরোপ করেন সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য। অনেক শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছেন, বাড়িওয়ালারা শিক্ষার্থীদের ভাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে নানা শর্ত চাপিয়ে দেন- মেয়েদের ক্ষেত্রে অভিভাবক ছাড়া ভাড়া দিতে চান না, ছেলেদের ক্ষেত্রে আবার আইডি কার্ড দেখিয়েও নানা কারণে প্রত্যাখ্যান করা হয়।
এক শিক্ষার্থী বলেন : “আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছি হয়েছি জ্ঞানের আলো খুজতে, কিন্তু এখন লড়ছি বেচে থাকার লড়াইয়ে। পুরান ঢাকায় থাকা খাওয়ার খরচ মেটাতে গিয়েই সারাদিন ছুটছি, এখন পড়ালেখা অসম্ভব হয়ে দাড়িয়েছে ”
শিক্ষার্থীদের ভাষ্যমতে, হল-নতুন ক্যাম্পাসের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য দিনের পর দিন সাধারণ শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করে গেলেও প্রশাসন আশ্বাসেই সীমাবদ্ধ। এখন অবধি নেই কোন অগ্রগতি কিংবা শিক্ষার্থীবান্ধব কোন কার্যক্রম।

