চীনের ঋণে বহুল আলোচিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। গত মার্চে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের চীন সফরের পর এ প্রকল্পে নতুন অগ্রগতি দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে চীনের কাছে প্রায় ৬ হাজার ৭০০ কোটি টাকা ঋণ চেয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
সরকারের নীতিনির্ধারকেরা জানিয়েছেন, চলতি বছরের মধ্যেই বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে আর্থিক চুক্তি (ফাইন্যান্সিয়াল অ্যাগ্রিমেন্ট) হতে পারে। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চীনের রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত প্রতিষ্ঠান পাওয়ার কনস্ট্রাকশন করপোরেশন অব চায়না (পাওয়ার চায়না) প্রকল্পটির সমীক্ষা সম্পন্ন করেছে।
‘কম্প্রিহেনসিভ ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড রেস্টোরেশন অব তিস্তা রিভার প্রজেক্ট’ নামের এ মহাপরিকল্পনার প্রথম ধাপ বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৭৫ কোটি ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৯ হাজার ১৫০ কোটি টাকা)। এর মধ্যে ৫৫ কোটি ডলার চীনের ঋণ থেকে আসবে এবং বাকি অর্থ সরকারি কোষাগার থেকে দেওয়া হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালে কাজ শুরু হয়ে ২০২৯ সালে শেষ হবে।
প্রকল্পের মূল দিকগুলো
-
তিস্তা নদীর ১০২ কিলোমিটার খনন (ড্রেজিং)
-
২০৩ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ ও তীর রক্ষা কার্যক্রম
-
১৭১ বর্গকিলোমিটার ভূমি উদ্ধার ও উন্নয়ন
-
নদীর দুই তীরে পরিকল্পিত স্যাটেলাইট শহর, মেরিন ড্রাইভ, পর্যটন অবকাঠামো গড়ে তোলা
-
আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় থানা, কোস্টগার্ড ও সেনা ক্যাম্প স্থাপন
কেন প্রয়োজন প্রকল্পটি
তিস্তা নদীর বাংলাদেশ অংশের দৈর্ঘ্য ১১৫ কিলোমিটার, যার মধ্যে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার ভাঙনপ্রবণ। গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী ও রংপুর জেলার মানুষ প্রতিবছর ভাঙন, বন্যা ও পানিশূন্যতায় ভোগেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বর্ষায় বন্যা ও ভাঙন নিয়ন্ত্রণ হবে এবং শুষ্ক মৌসুমে পানি প্রবাহ বাড়ানো সম্ভব হবে।
বিশেষজ্ঞ মত
পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ জানিয়েছেন, চীনের সঙ্গে প্রকল্পটি নিয়ে আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে এবং উভয় পক্ষই আগ্রহী। পানিসম্পদ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান মনে করেন, দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী এই প্রকল্প নদীটির প্রবাহ রক্ষা ও তীরবর্তী মানুষকে ভাঙন-বন্যা থেকে রক্ষায় সহায়ক হবে।
তবে পানি বিশেষজ্ঞ আইনুন নিশাত সতর্ক করে বলেন, চীনের অর্থায়ন ও প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ হলেও ভারতের সঙ্গে সমঝোতা ছাড়া শুষ্ক মৌসুমে তিস্তায় পানিপ্রবাহ বাড়ানো সম্ভব নয়।

