নেত্রকোণা প্রতিনিধি ঃ
নেত্রকোণার মদনে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২৬ শে মার্চ ২০২৫ উপলক্ষে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন। বুধবার দুপুরে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে আয়োজিত সংবর্ধনা সভায় কৃষকলীগের আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা ছদ্দু মিয়ার বক্তব্য প্রদান কে কেন্দ্র করে ছাত্র জনতা সহ বিএনপি পন্থি মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
মদন উপজেলা কৃষকলীগের আহবায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা ছদ্দু মিয়া তার বক্তব্যে বলেন,‘ মদনে রাজনীতি নিয়ে আমি সক্রিয় ছিলাম না। আমার অপরাধ একটাই, আমার নামে খাদ্যবান্ধন কর্মসূচির লাইসেন্স ছিল। আমার নামে মামলা দেওয়া হয়েছে। লাইসেন্সটি কেড়ে নেওয়া হয়েছে আমি ২৩ দিন কারাগারে ছিলাম। মুক্তিযোদ্ধারা কোন অপরাধ করে নাই।’
তাঁর এমন বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছড়িয়ে পড়ায় তুমুল সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। ফ্যাসিস্ট সরকারের দলীয় পদবি ও নাশকতা মামলার আসামি হয়েও কিভাবে সংর্বধনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন এ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
বীরমুক্তিযোদ্ধা সহ ও স্থানীয়রা জানান, ছদ্দু মিয়া বিত্তশালী থাকার পরেও শেখ হাসিনা সরকারের দলীয় প্রভাব কাটিয়ে অসহায়দের বঞ্চিত করে তার নামে বীর নিবাস বরাদ্দ নিয়েছে। তিনি আওয়ামীলীগ প্যানেলের মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার ছিলেন। ইউনিয়ন পর্যায়ে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির ডিলারসহ বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা নিয়েছেন। সরকার পতনের পর তার নামে নাশকতা মামলায় হয়।
এ ব্যাপারে সাবেক উপজেলা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা মুতিউর রহমান জানান, মুক্তিযোদ্ধা ছদ্দু মিয়া উপজেলা কৃষকলীগের আহবায়ক। ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় অনেক সুযোগ সুবিধা নিয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের সভা সেমিনারে আমাদের কোন মূল্যায়ন করেনি। আজ সংবর্ধনা সভায়ও সে বক্তব্য দিয়েছে। বক্তব্যের সাথে সাথেই আমি প্রতিবাদ করেছি। তার বক্তব্য নিয়ে এখন সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে কথা বলব। ’
উপজেলা বিএনপির সভাপতি নূরুল আলম তালুকদার বলেন, ‘অসুস্থতার কারণে আমি সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে যেতে পারিনি। তবে কৃষকলীগের আহবায়ক ছদ্দু মিয়া ৫ আগষ্টের আগের প্রত্যেকটি ঘটনায় লাটিসোঁটা নিয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মারপিটে অংশ নেন এবং দীলয় কর্মকান্ডে জড়িত ছিলেন। ফ্যাসিস্ট খুনী শেখ হাসিনা পলায়নের পর ছদ্দু মিয়াও পলাতক ছিল। সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উনি যে বক্তব্য দিয়েছেন আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।’
মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে উপজেলা যুবউন্নয়ন কর্মকর্তা আব্দুল আহাদের সঞ্চলনায় ইউএনও অহনা জিন্নাতের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম আকন্দ, ওসি নাঈম মোহাম্মদ নাহিদ হাসান, সাবেক কমান্ডার বীর মুতিউর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আজহারুল ইসলাম হিরো, বীর মুক্তিযোদ্ধা আরশুজ্জামান খান, বীরমুক্তিযোদ্ধা শাহাজান উদ্দিন ভূঁইয়া প্রমূখ।
এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে ইউএনও অহনা জিন্নাতের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দিলে রিসিভ না করায় বক্তব্য দেয়া সম্ভব হয়নি।