তানভির হোসেন রাজু, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধিঃ
ঈদকে সামনে রেখে ওমানি টুপি তৈরিতে ব্যস্ত ফুলবাড়ীর নারীরা,যা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে ওমান দেশে পেয়েছে ঠাঁই। আর নারীদের এই কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে তালুক শিমুলবাড়ী ফকিরপাড়া গ্রামের বাবলু খন্দকার বাবু গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। তার সহায়তায় অনেক নারী এখন নিজেদের পায়ে দাঁড়ানোর সুযোগ পাচ্ছেন।
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছেন টুপি শিল্পের সাথে যুক্ত নারীরা। সুই-সুতোর নিপুণ ছোঁয়ায় তৈরি নকশাদার টুপি দেশের গণ্ডি পেরিয়ে এখন জায়গা করে নিচ্ছে আন্তর্জাতিক বাজারে, বিশেষ করে ইউরোপের দেশ ওমানে।এই শিল্পের মাধ্যমে ফুলবাড়ীর অনেক নারী স্বাবলম্বী হচ্ছেন। ঘরে বসেই তারা হাতে টুপি তৈরি করে অর্থ উপার্জন করছেন, যা তাদের পরিবারে এনেছে স্বচ্ছলতা। ফলে শুধু অর্থনৈতিক উন্নতিই নয়, নারীদের আত্মবিশ্বাসও বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ফুলবাড়ী উপজেলার বালাটারী গ্রামের মায়া বেগমের বাড়িতে গেলে দেখা মেলে, কয়েকজন নারী সুই-সুতো হাতে নিয়ে মনোযোগ দিয়ে কেউবা শাড়ি বন্ধ হয়ে কেউবা আবার গোলাকৃতি হয়ে বসে,কেউবা আবার দাঁড়িয়ে ওমান টুপি তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। এখানকার নারীরা প্রশিক্ষণ নিয়ে এই কাজে দক্ষতা অর্জন করেছেন এবং নিয়মিত কাজ করছেন। বর্তমানে এই গ্রামে প্রায় ৪০ জন আর উপজেলায় উদ্যোক্তা বাবলুর খন্দকার বাবুলের নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন ৮ শত নারী কর্মী। এই নারীরা বিভিন্ন নকশার টুপি তৈরি করছেন,যা দেশীয় বাজার ছাড়িয়ে বিদেশেও রফতানি হচ্ছে। আর এক একটি টুপি তৈরির মূল্য নির্ভর করে এর সূচিকর্ম ও নকশার ওপর। আবারও বাবলুর খন্দকার বাবুল নতুন করে ৩০ জন মহিলাকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার জন্য আরেকটি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র খুলেন। যেখানে জেলা ও উপজেলা থেকে যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাগণ এসে উদ্বোধন ও পরামর্শ প্রদান করেন।
টুপি তৈরির মহিলা কারিগররা জানান,
দীর্ঘদিন ধরে এই শিল্পের সাথে যুক্ত আমরা যুক্ত আছি প্রতিটি টুপি তৈরি করলে ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত মজুরি পাওয়া যায়। সংসারের কাজের ফাঁকে মাসে দুইটা থেকে তিনটা টুপি তৈরি করে থাকি। এতে যা আয় হয় তা দিলে সংসারের কাজে লাগাই,শুধু আমরা নই উপজেলায় আমাদের মত অনেক মহিলারা এই কাজ করে সংসারের সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনছে।
টুপি তৈরির উদ্যোক্তা বাবলুর খন্দকার বাবু জানান,আমি ফেনিতে গিয়ে একটি ওমানি টুপির কারখানায় প্রশিক্ষণ নিয়ে এসে আমার উপজেলায় বিভিন্ন শ্রেণির মহিলাদেরকে ৩০ জন করে একত্রিত করে প্রশিক্ষণ দেই এবং প্রশিক্ষণ শেষে তাদেরকে টুপি তৈরির কাজ দেই।
একটি ওমান টুপি তৈরির নির্ধারিত মজুরি দিয়ে টুপি সংগ্রহ করি। একেকটি টুপি তৈরির মজুরি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫ শত টাকা হয়ে থাকে। বর্তমানে আমার আওতায় ৮০০ নারী কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছেন। আমার এই ওমান টুপি দেশের বাহিরে যাচ্ছে।
ফুলবাড়ী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ললিত মোহন রায় জানান, গ্রামের বেকার মহিলারা তাদের সংসারের কাজের ফাঁকে এই ওমানি টুপির কাজ করে সংসারের সচ্ছলতা আনছে এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছে। ওমানী টুপি তৈরীর উদ্যোক্তা বাবলুর খন্দকার বাবু বলেন, এখন ৮ শত জন মহিলা এই ওমান টুপি তৈরি করছে আর এই টুপি দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশে যাচ্ছে।