সিলেট ব্যুরো:-
মুখে দেশের সংস্কারের কথা বললেও তলে তলে আ.লীগের নেতাকর্মীদের গনজামিনে ব্যাস্হ রয়েছেন সিলেটের গুটি কয়েক বিএনপি পন্হী আইনজীবীরা। বিপুল পরিমান টাকার নেশায় এরা দল, জনগন ও দেশের কথা ভুলে গিয়ে নিজেদের বিক্রি করে দিয়েছে। ভুলে গেছেন গত ১৬ বছরের আ.লীগের দেয়া প্যাদানি ও জেল জুলুমের কথা। এরা বিএনপির ভিতরে ঢুকে বিএনপিকেই ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এদের মাধ্যমে ফ্যাসিস্টরা জামিনে বের হয়ে বুক ফুলিয়ে দেশ ও জাতির ক্ষতিকরার চেষ্টা করছে। কথাগুলি বলেছেন সিলেট মহানগর বিএনপির এক শীর্ষস্হানীয় নেতা।
গতকাল বেশ কিছু গনমাধ্যমে এরখম সংবাদ দেখা যায়। সেসব সংবাদের সুত্র ধরে জানা যায়,
গত ২০২৪ সালের আগষ্টের ৪ তারিখ বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনে সরকার পতনের পর ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার ধোসর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আত্মগোপনে চলে যান। অনেকে আবার গ্রেফতার হন। গ্রেফতারকৃত সেসব নেতাকর্মীদের এতোদিন ‘তলে তলে‘ জামিন করাতে আদালতে লড়াই করছেন বিএনপির আইনজীবীরা। এবার অনেকটা প্রকাশ্যে কারান্তরীণ আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর পক্ষে উঠছেন আদালতে। আক্ষরিক অর্থে তারা দলকে পাস কাটিয়ে বাণিজ্যিক স্বার্থে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর গণ জামিনের দায়িত্ব নিয়েছেন, এমন অভিযোগ নেতাকর্মীর। গত বুধবার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তৃতীয় আদালত থেকে মোগলাবাজার জিআর-২৭/২৪ মামলায় ৩ আসামির জামিন করান বিএনপির আইনজীবী অ্যাডভোকেট ফাহমি ও অ্যাডভোকেট আব্দুর রাজ্জাক রাজ্। জামিনপ্রাপ্তরা হলেন আওয়ামী লীগ নেতা দেলোয়ার, জাফরুল ও কামরুল। ওই মামলার বাদি মহানগর বিএনপির ২৭ নং ওয়ার্ডের সভাপতি নাজিম উদ্দিন।
কোনো ধরণের বিপত্তি ছাড়াই তারা জামিনে বেরিয়ে যান। অথচ জামিনের বিষয়ে যেখানে মহানগর আদালতের পিপি-এপিপিরা বিরোধীতা করার কথা, সেখানে তাদের নিস্ক্রিয়তা প্রশ্নবিদ্ধ করছে দলকে।
সুত্র জানায়, মহানগর বিএনপির শীর্ষ নেতাদের নির্দেশে বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর গণজামিনের ব্যবস্থা করেন। তারা দলের চেয়ে এখন মামলায় জামিন বাণিজ্য নিয়ে বেশি ব্যতিব্যস্ত। তারা নিজেরা জামিন করালে ওরা বিএনপির, আর অন্যরা করালে সেটি আওয়ামী লীগের হয়ে যায়। মহানগর আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট বদরুল আহমদ চৌধুরীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। সিলেট জেলা জজ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট আশিক উদ্দিন বলেন, বিএনপি পন্থী আইনজীবীরা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের জামিন করানোর বিষয়ে শুনেছি। আগামি পরশু আইন উপদেষ্টা সিলেটে আসছে, এগুলো তুলে ধরা হবে। এ বিষয়ে মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, আমি ঢাকায় রয়েছি। এই বিষয় সম্পর্কে কোনো কিছুই জানিনা।