সদরপুর উপজেলা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:
কম খরচে বেশি লাভ হওয়ায় ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার কৃষকেরা তামাকের চাষ ছাড়ছেন না। এ কারণে কৃষকেরা অন্যান্য ফসলের চাষ কমিয়ে দিয়ে তামাক চাষে ঝুঁকছেন।
কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলেন, তাঁরা কৃষকদের তামাক চাষের কুফলগুলো বোঝাচ্ছেন এবং তামাকের বদলে বিভিন্ন ধরনের ফসল চাষের পরামর্শ দিচ্ছেন।
উপজেলার কাটাখালি ও চরবিষ্ণপুর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে তামাকখেত। খেতে কেউ তামাকগাছের পরিচর্যা করছেন, কেউ নষ্ট পাতা কাটছেন। আবার কেউ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে তামাকখেতে সার দিচ্ছেন। তামাকখেতে নারীরাও পরিচর্যার কাজ করছেন। এ ছাড়া নারী ও পুরুষেরা তামাকখেতে কীটনাশক ও পাতাকে বাজারজাত করতে শুকানোর জন্য নিজেদের তৈরি বিশাল চুলোতে তাপ দিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
বিশ্লেষকেরা বলছেন, কৃষি বিভাগের উদাসীনতা, উৎপাদনের আগে কোম্পানির তামাকের দর নির্ধারণ, বিক্রয়ের নিশ্চয়তা, চাষের জন্য সুদমুক্ত ঋণ, কোম্পানির প্রতিনিধিদের নিয়মিত মাঠ পরিদর্শন, পরামর্শ দানসহ সাত কারণে অন্যান্য ফসল ছেড়ে তামাক চাষে ঝুঁকছেন এই অঞ্চলের কৃষকরা।
কয়েকজন কৃষক বলেন, তামাক চাষে সার, কীটনাশক ও সেচ কম লাগায় উৎপাদন খরচ কম হয়। আর দামও ভালো পাওয়া যায়। তাই স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর জেনেও তাঁরা এর চাষ বন্ধ করতে পারছেন না। আর অন্য ফসল চাষে খরচ অনেক বেশি। সবকিছুর দাম বেশি। তাই অনেকে তামাক চাষে ঝুঁকছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ভাষানচর ইউনিয়নের কাটাখালি ও চরবিষ্ণপুর ইউনিয়নে কয়েকটি এলাকায় এবছর তামাক চাষ হয়েছে। এর আগে এই উপজেলার কোন জমিতে তামাক চাষ করা হয়নি।