গতকাল বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) নতুন ছাত্র সংগঠন ঘোষণার আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে বিক্ষোভ করেন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এসময় দুপক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
পদ-পদবি নিয়ে শেষ পর্যায়েও দ্বন্দ্ব-বিভেদ মেটানোর চেষ্টা ছিল। শেষ পর্যন্ত উপদেষ্টার পদ থেকে সদ্য পদত্যাগ করা নাহিদ ইসলামকে আহ্বায়ক এবং সদস্যসচিব পদে আখতার হোসেনের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে।
এছাড়াও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক পদে সারজিস আলম, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হিসেবে হাসনাত আব্দুল্লাহ এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়েছে।
তবে সবার মন যোগাতে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক ও জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিবের পদ তৈরি করা হয়। এই দুটি পদের জন্য দাবিদার হয়েছেন বেশ কয়েকজন। ফলে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি।পরে এই দুই পদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
শুক্রবার জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্র নেতাদের দলের আত্মপ্রকাশের দিনে শীর্ষপদগুলোসহ ১৫১ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হবে।
তবে পদ-পদবি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে এই দল গঠনের প্রক্রিয়ার শেষ পর্যায়ে বেরিয়ে গেছেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কয়েকজন নেতা।
যদিও সমঝোতার মাধ্যমে তৈরি করা শীর্ষ পর্যায়ের দুটি পদে আলী আহসান জুনায়েদ এবং রাফে সালমান রিফাত থাকতে পারেন বলে আলোচনা ছিল।
কিন্তু ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক এই দুই নেতা নতুন দলে থাকছেন না জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছেন।
দল গঠনের একাধিক নেতা বলেছেন, “ব্যক্তিগত এবং বিচ্ছিন্নভাবে দুই-একজন আনাগ্রহী” হলেও “সামগ্রিক কার্যক্রম ঐক্যমত্যের ভিত্তিতে এগিয়ে নেয়া হচ্ছে”।
অনেকেই বলছেন, দল ঘোষণার আগেই পদ-পদবি নিয়ে এই ধরনের বিভাজন দলের “ভাবমূর্তি সংকটের” কারণ হতে পারে।
বিষয়টিকে আবার ভিন্নভাবেও দেখছেন কেউ কেউ। তাদের মতে, শিবিরের সঙ্গে যুক্ত নেতারা দলে না থাকায় জামায়াতের বি-টিম হয়ে কাজ করার যে অভিযোগ নতুন দলের বিরুদ্ধে উঠেছিল, এর মাধ্যমে তা কাটিয়ে ওঠার সুযোগ পাবে দলটি।
কমিটির যুগ্ম-আহ্বায়করা হলেন, তৌহিদ মোহাম্মদ সিয়াম, নুরুল গণি সগির, খান তালাত মাহমুদ রাফি (চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়), জুবায়ের হোসেন (ঢাকা কলেজ), মো. আব্দুল করিম, নূর নবী (জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়), মেহেদী সজিব (রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়), নাঈম আক্তার রিতা (জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়), জয় বিশ্বাস, রুপাইয়া শ্রেষ্ঠা তঞ্চঙ্গ্যা, আব্দুল্লাহ মো. তানভীর, তোফাজ্জল হোসেন সাদাত, মিতু আক্তার, ফারাবি জিসান (ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি), মাহফুজুর রহমান (চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়), মুক্তি হোসেন মুক্তার, সোহানুর রহমান সোহাগ, সাব্বির আহমেদ, জানে আলম অপু, মো. জোবায়ের সাফওয়ান, মো. মাহফুজার রহমান, দীপন চৌধুরী, তুহিন আহমেদ, মহিউদ্দিন, সোহেল রানা সাব্বির, মো. তামিম হোসাইন, আবু বক্কর, জাফর ইমাম, গোলাম কিবরিয়া অপু, আসাদ উল্লাহ, ইমরান নাজির, রেজওয়ান শরীফ, মারুফ হাসান প্রান্ত (ইউল্যাব), রেজা-এ-রাব্বী জায়েদ (তিতুমীর কলেজ), এস এম ফয়জুল্লাহ, ইশতিয়াক আহমেদ শিহাব, নিজাম উদ্দিন ও জহিরুল ইসলাম।
সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব হলেন আল মাসনুন (চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়)
উল্লেখ্য, জাতীয় নাগরিক কমিটি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উদ্যোগে আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি নতুন দলের ঘোষণা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। নতুন এই দলের আহ্বায়ক পদে দেখা যেতে পারে নাহিদ ইসলামকে।