নোয়াখালী সংবাদদাতা
নোয়াখালী জেলা নির্বাচন অফিসের এক কর্মচারি ঘুষের টাকা ফেরত দিয়েছেন।
বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সাংবাদিক ইমাম উদ্দিন আজাদ, তিনি বলেন, ঘুষ নেয়ার অভিযোগে আমি নিজে বাদী হয়ে জেলার নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে (২৩ ফেব্রুয়ারি) একটি অভিযোগ দাখিল করি। এর আগে, গত বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) আমার হাত থেকে নেওয়া ওই ঘুষের টাকা জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মো.নওয়াবুল ইসলামের হস্তক্ষেপে ফেরত দেওয়া হয়।
এছাড়া লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নোয়াখালী জেলা নির্বাচন অফিসে জাতীয় পরিচয় পত্রের অনলাইন ভেরিফাইড এবং অন্যন্য সেবা গ্রহণের জন্য গেলে সেবা গ্রহিতাদের কাছ থেকে অফিসের কিছু কর্মচারি অনৈতিকভাবে টাকা দাবি করেন এবং টাকা দিতে বাধ্য করেন। সত্যতা জানতে দৈনিক আমার সংবাদের নোয়াখালী প্রতিনিধি ইমাম উদ্দিন আজাদ গত ১৯ ফেব্রুয়ারি দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নিজের এবং তার বন্ধুর জাতীয় পরিচয় পত্রের অনলাইন ভেরিফাইড কপি সংগ্রহের জন্য গেলে হিসাব সহকারি তবলু সূত্রধর সাংবাদিকের কাছ থেকেও টাকা নেন। এ বিষয়ে জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা নওয়াবুল ইসলামকে জানালে তিনি ঘুষের টাকা গুলো উদ্ধার করে দেন। এর পরবর্তীতে জেলা নির্বাচন অফিসের উচ্চমান সহকারী মোহাম্মদ মহিউদ্দিন অভিযোগকারী সাংবাদিক ইমাম উদ্দিন আজাদ অফিস ছেড়ে যাওয়ার পথে তাকে থামিয়ে অকথ্য ভাষায় ভর্ৎসনা করে। তার ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণে চরম অপমানিত করেন সাংবাদিক ইমাম উদ্দিন আজাদকে।
অনুসন্ধানে জানাযায়, মোহাম্মদ মহিউদ্দিন দীর্ঘদিন এ অফিসে কর্মরত থাকায় দাম্ভিকতার সাথে ফ্যাসিস্ট ও স্বৈরাচারের সাথে আঁতাত করে দাপটের সাথে করেছেন দুর্নীতি। তার দুর্নীতির কর্মযজ্ঞ এখনো চলমান, টাকা না পেলে সেবা প্রার্থীদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেন হরহামেশাই। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করে অনেক টাকার মালিক বনে গেছেন এই কর্মচারী। ইতিমধ্যে সে নোয়াখালী পৌরসভার হরিনারায়ণপুরে ভিআইপি এলাকায় জমি কিনে যৌথভাবে বহুতল ভবন নির্মাণ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা নির্বাচন অফিসের উচ্চমান সহকারী মোহাম্মদ মহিউদ্দিন বলেন, সাংবাদিকের সাথে আমার উচ্চ বাক্য বিনিময় হয়েছে। তিনি পাবলিকের দুটি সংশোধনী ও দুটি ভেরিফাইড কাজ নিয়ে আসেন। কাজ করে দেয়ার পর তিনি ভেরিফাইড কপি চান। এরপর অফিসের স্টাফরা জানতে চেয়েছেন এগুলো কি আপনার। তিনি তার নয় বললে তখন টাকা রাখেন আমাদের এক স্টাফ। পরে তিনি জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তাকে জানালে তার নির্দেশে টাকা গুলো ফেরত দেওয়া হয়।
যোগাযোগ করা হলে জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মো.নওয়াবুল ইসলাম বলেন, কথাবার্তা হয়েছে, আমি বিষয়টি দেখতেছি।