প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর আপাতত হচ্ছে না। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, বর্তমান রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে সরকার এই সফর আপাতত স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারত সফর না হওয়ার পেছনে কয়েকটি কারণ কাজ করছে। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ভারতের ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক, সাবেক শেখ হাসিনা সরকারের প্রতি নয়াদিল্লির প্রকাশ্য সমর্থন, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দুই দেশের সম্পর্কে সৃষ্ট অস্বস্তি, সীমান্তে হত্যা, তিস্তার পানিবণ্টনসহ দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত ইস্যু এবং পারস্পরিক আস্থার ঘাটতি।
এসব বিষয়ের দৃশ্যমান অগ্রগতি ছাড়া উচ্চপর্যায়ের সফর থেকে উল্লেখযোগ্য ফল আসবে না, এমন মূল্যায়ন থেকেই আপাতত ভারত সফরে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে বর্তমান সরকার পররাষ্ট্রনীতিতে “বাংলাদেশ ফার্স্ট” নীতিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। অর্থাৎ, যেকোনো বিদেশ সফর বা দ্বিপাক্ষিক উদ্যোগের আগে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক, কৌশলগত ও নিরাপত্তাগত স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেছেন। কূটনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে, আগামী সময়ে তিনি জাপান, তুরস্ক, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), কাতার, যুক্তরাজ্য এবং প্রয়োজনে যুক্তরাষ্ট্র সফর করতে পারেন। এসব সফরে বিনিয়োগ, বাণিজ্য, জ্বালানি, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও প্রযুক্তিগত অংশীদারিত্বের বিষয়গুলো অগ্রাধিকার পেতে পারে, যদিও এসব সফরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো আসেনি।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ভারত সফর বাতিল করা হয়নি। দুই দেশের সম্পর্ক স্বাভাবিক ও আস্থার পরিবেশ সৃষ্টি হলে ভবিষ্যতে সফরের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করা হতে পারে। তবে বর্তমান পর্যায়ে সরকারের অগ্রাধিকার হচ্ছে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে সামনে রেখে বহুমুখী ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতি বাস্তবায়ন করা।

