গ্রীষ্মমণ্ডলীয় প্রশান্ত মহাসাগরে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘এল নিনো’ পরিস্থিতির সূচনা হয়েছে। আগামী কয়েক মাসে এটি আরও তীব্র আকার ধারণ করতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘের অধীন বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও)।
শুক্রবার (৩ জুলাই) প্রকাশিত সংস্থাটির এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে এল নিনোর প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলের মধ্য ও পূর্বাংশে সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেশি হতে পারে।
ডব্লিউএমওর মহাসচিব চেলেস্তে সাউলো বলেছেন, শক্তিশালী এল নিনোর কারণে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও ঘন ঘন দেখা দিতে পারে। এর ফলে কোথাও দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ ও খরা, আবার কোথাও অতিবৃষ্টি ও বন্যার ঝুঁকি বেড়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে সমুদ্রের তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে সামুদ্রিক তাপপ্রবাহ (মেরিন হিটওয়েভ) সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
সংস্থাটির মূল্যায়নে বলা হয়েছে, এল নিনোর প্রভাবে ভারতীয় উপমহাদেশ, অস্ট্রেলিয়া এবং গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ভারত মহাসাগরের কিছু এলাকায় স্বাভাবিকের তুলনায় কম বৃষ্টিপাত হতে পারে। বিপরীতে, মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল এবং আফ্রিকার গিনি উপসাগরের উত্তরাঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।
এছাড়া আফ্রিকার হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চল, মধ্য আমেরিকা, ক্যারিবীয় দ্বীপপুঞ্জ এবং দক্ষিণ আমেরিকার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলেও বৃষ্টিপাত কম হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইউরোপেও এল নিনোর প্রভাব ভিন্ন ভিন্নভাবে দেখা দিতে পারে। দক্ষিণ ইউরোপে তুলনামূলক বেশি আর্দ্র ও বৃষ্টিপ্রবণ আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে, অন্যদিকে উত্তর ইউরোপে শুষ্ক আবহাওয়ার প্রবণতা বাড়তে পারে। পাশাপাশি ভারত মহাসাগর ও গ্রীষ্মমণ্ডলীয় আটলান্টিক মহাসাগরের পানির তাপমাত্রাও স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রশান্ত মহাসাগরের পানির অস্বাভাবিক উষ্ণতার কারণে সাধারণত দুই থেকে সাত বছর পরপর এল নিনো সৃষ্টি হয়। এই প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্র সাধারণত ৯ থেকে ১২ মাস পর্যন্ত স্থায়ী হয় এবং বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়া ও জলবায়ুর ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলে।
সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় জাতিসংঘ ইতোমধ্যে বিভিন্ন দেশ, মানবিক সহায়তা সংস্থা এবং কৃষি, স্বাস্থ্যসহ জলবায়ু-সংবেদনশীল খাতগুলোর সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করেছে। মৌসুমি পূর্বাভাস, জলবায়ু সেবা এবং আগাম সতর্কীকরণ ব্যবস্থা আরও কার্যকর করার মাধ্যমে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া।

