ববি প্রতিনিধি:
বৃদ্ধ মা-বাবাকে ভিটেবাড়ি থেকে উচ্ছেদ ও তাদেরকে মারধরের প্রতিবাদ করায় বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) এক শিক্ষার্থীর ওপরে হামলা করা হয়েছে। ভোলা সদর উপজেলার চড়পাতা গ্রামের মানিক বাঘা ও শাহ আলম বাঘার অনুসারীরা হামলা করে হাসানকে আহত করে। আহত হাসান বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী।
গত ২৪ ই জুন (বুধবার) হাসানের গ্রামের বাড়িতে মানিক বাঘা ও শাহ আলম বাঘার অনুসারী ২৫ থেকে ৩০ জন মো. হাসানের ওপরে দেশিও অস্ত্র, ইট পাটকে ও লাঠিসোটা দিয়ে হামলা করে। হামলার একপর্যায়ে হাসানের মাথা ফেটে গিয়ে প্রচন্ড রক্তক্ষরণ হলে হামলাকারীরা তাকে ফেলে পালিয়ে যায়। পরে তারা বাবা-মা তাকে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, এর আগে গত ২১ই জুন হাসানের বৃদ্ধ মা-বাবা ও ভাই-বোনকে মারধর করে আহত করে মো. শাহে আলম বাঘা। এই ঘটনার প্রতিকার চেতে গিয়েই বিপাকে পড়েন মো. হাসান, তাকেও হামলা করে আহত করা হয়।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, জাতীয় পার্টি বিজেপি ভোলা জেলার সিনিয়র সহ-সভাপতি আলমগীর হোসেন মানিক বাঘা ও শাহআলম বাঘার নেতৃত্বেই হামলা হয়েছে। এই মানিক বাঘা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী ও সুদের কারবারি। এই মানিক বাঘার কাছে আমাদের পরিবার পরিবার দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতনের শিকার। সুদের ঋণের কারণে তার বড় ভাই মুহাসিন দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন এবং দিনমজুর বাবা হিরণ জায়গা-জমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। বর্তমানে পরিবারের শেষ আশ্রয়স্থল ভিটেবাড়ি থেকেও উচ্ছেদের চেষ্টা চলছে। ভিটেবাড়ি থেকে উচ্ছেদ করতেই হামলা চালানো হয়েছে তার বৃদ্ধ মা-বাবার ওপরে। এ ঘটনায় মানিক বাঘার অনুসারী রকি, জাহাঙ্গীর বাড়ৈ, শাহ আলম বাঘা, মনিরসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ভয়ভীতি প্রদর্শন, মারধর ও হুমকির অভিযোগ করেন তিনি।
জানা যায়, গত ২৪ জুন অভিযোগের বিষয়ে সুরাহার জন্য তিনি বরিশাল থেকে নিজ বাড়িতে যান। পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে চলে যাওয়ার পর বিকেল প্রায় ৪টা ৪৫ মিনিটে রকির নেতৃত্বে একদল স্থানীয় কিশোর ও মধ্যবয়সী ব্যক্তি তার, তার বাবা ও ছোট ভাইয়ের ওপর হামলা চালায়। এতে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে তার মাথা ফেটে যায়, তিনি অজ্ঞান হয়ে যান এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।
হাসানের অভিযোগ, ঘটনার পর থেকে তাদের পরিবারকে মিথ্যা মামলার ভয় দেখানো হচ্ছে এবং এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে তারা নিজ বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন।
এ বিষয়ে মো. হাসান বলেন, “আমাদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক নির্যাতন, ভয়ভীতি ও হামলার শিকার। এর প্রতিকার চেয়ে আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক—এটাই আমাদের দাবি।”
ভোলা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমরা জেনেছি এটা তাদের পারিবারিক বিষয় এটা সমাধানের জন্য পুলিশ ওদের বাসায়ও গিয়েছিলো পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চলে আসার পরে হামলার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ হাসানকে হাসপাতালে দেখতে গিয়েছিলো। এবিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেলে আমরা তদন্তপূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা নিবে।

