মুক্তাগাছা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি:
ময়মনসিংহের মুক্তাগাছায় ১৫ বছর বয়সী এক মাদরাসা ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে লজিং শিক্ষক ও স্থানীয় একটি মসজিদের ইমাম মো. আব্দুল্লাহকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ওই পৈশাচিক ঘটনার শিকার কিশোরী বর্তমানে প্রায় ৭ মাসের (২৭ সপ্তাহ) অন্তঃসত্ত্বা।
গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন ২০২৬) গভীর রাতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে উপজেলার খেরুয়াজানী ইউনিয়নের পার্শ্ববর্তী একটি গ্রাম থেকে অভিযুক্তকে আটক করা হয়। গ্রেপ্তারকৃত আব্দুল্লাহ মুক্তাগাছা উপজেলার ভিটিবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা। এর আগে ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে মুক্তাগাছা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন।
মামলার এজাহার ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ ভুক্তভোগী কিশোরীর ফুফাতো ভাইয়ের সহপাঠী হওয়ার সুবাদে তাদের বাড়িতে লজিং থাকতেন। এর পাশাপাশি তিনি স্থানীয় একটি মসজিদে ইমামতি করতেন। কিশোরীর বাবা-মা দুজনেই জীবিকার তাগিদে ঢাকার একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করায় সে গ্রামের বাড়িতে বৃদ্ধা দাদির সঙ্গে বসবাস করত।
অভিযোগে বলা হয়েছে, গত বছরের ২২ নভেম্বর রাতে পড়াশোনার সময় কিশোরীর কক্ষে একা পেয়ে জোরপূর্বক প্রবেশ করে তাকে ধর্ষণ করেন আব্দুল্লাহ। পরবর্তীতে এই ঘটনা কাউকে জানালে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। ফলে ভয় ও সামাজিক লোকলজ্জার কারণে দীর্ঘদিন বিষয়টি নিজের বুকেই চেপে রাখে ওই কিশোরী।
কয়েক মাস অতিবাহিত হওয়ার পর কিশোরীর শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিলে তার দাদির মনে সন্দেহের উদ্রেক হয়। পরবর্তীতে তাকে স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে আল্ট্রাসনোগ্রাফি ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো হলে জানা যায়, সে প্রায় ২৭ সপ্তাহের (সাত মাস) অন্তঃসত্ত্বা। চিকিৎসকের রিপোর্টের পর পরিবারের সদস্যদের কাছে কান্নায় ভেঙে পড়ে পুরো ঘটনার বিবরণ দেয় এবং লজিং শিক্ষক আব্দুল্লাহর নাম প্রকাশ করে কিশোরী। প্রথমে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হলেও তা ব্যর্থ হলে ভুক্তভোগীর বাবা ঢাকা থেকে এসে থানায় মামলা দায়ের করেন।
বুকফাটা আর্তনাদ নিয়ে ভুক্তভোগী মাদরাসা ছাত্রী জানায়: “লোকলজ্জা আর জানমালের ভয়ে এতদিন কাউকে কিছু বলতে পারিনি। এখন আমি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা। আমি আমার গর্ভের সন্তানের সামাজিক স্বীকৃতি চাই এবং এই অন্যায়ের দৃষ্টান্তমূলক সুষ্ঠু বিচার চাই।”
মুক্তাগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ইসলাম মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত আব্দুল্লাহ পলাতক ছিলেন। তাঁকে গ্রেপ্তার করতে ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় একাধিক অভিযান চালানো হয়। অবশেষে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় খেরুয়াজানী এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে ইতোমধ্যে বিজ্ঞ আদালতে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সত্যতা নিখুঁতভাবে যাচাই এবং আইনি আলামত শক্তিশালী করতে ভুক্তভোগী ও অভিযুক্তের ‘ডিএনএ (DNA) টেস্ট’ করানোর জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছে। অপরাধীর সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্বের সাথে কাজ করছে।

