সত্যজিৎ দাস, (মৌলভীবাজার):
শিশুর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা,অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব প্রতিরোধ এবং শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি কমানোর লক্ষ্যে আগামী ২৮ জুন অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন-২০২৬ সফলভাবে বাস্তবায়নে ব্যাপক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ। এ উপলক্ষে শনিবার (২৭ জুন) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সভাকক্ষে এক অবহিতকরণ ও পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের আয়োজনে এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জনস্বাস্থ্য পুষ্টি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সিনথিয়া তাসমিন। প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান। সভায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক,স্বাস্থ্য পরিদর্শক,সহকারী স্বাস্থ্য পরিদর্শক,স্বাস্থ্য সহকারী,মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্যকর্মী,স্বেচ্ছাসেবক ও স্থানীয় কজন গণমাধ্যমকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
সভায় জানানো হয়,দীর্ঘ ১৪ মাস পর আগামী ২৮ জুন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত উপজেলার সব নির্ধারিত কেন্দ্রে শিশুদের বয়সভিত্তিক উচ্চমাত্রার ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের নীল রঙের (১ লাখ আইইউ) এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের লাল রঙের (২ লাখ আইইউ) ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল প্রদান করা হবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ইউনিয়ন পর্যায়ে ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ৩ হাজার ৯৫৯ জন এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৩২ হাজার ১৫০ জন শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া পৌরসভা এলাকায় প্রায় ৪ হাজার শিশুকে এ কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। সব মিলিয়ে উপজেলায় প্রায় ৪০ হাজার শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
ক্যাম্পেইন বাস্তবায়নে উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে ২১২টি কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে একটি স্থায়ী কেন্দ্র ছাড়াও পৌরসভায় ৩টি স্থায়ী ও ৯টি অস্থায়ী কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে ৪১৭ জন এবং পৌরসভায় ৫২ জন স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও তদারকি কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক ক্যাম্পেইনের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করবেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জিয়াউর রহমান বলেন,“ভিটামিন ‘এ’ শুধু একটি ক্যাপসুল নয়,এটি শিশুদের সুস্থ ভবিষ্যৎ গঠনের অন্যতম কার্যকর হাতিয়ার। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব প্রতিরোধ এবং শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে এ কর্মসূচির গুরুত্ব অপরিসীম।” তিনি বলেন, শ্রীমঙ্গলের প্রত্যন্ত চা-বাগান,হাওর এলাকা ও পৌরসভার প্রতিটি যোগ্য শিশু যেন এ কর্মসূচির আওতায় আসে,তা নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য সরকারি কর্মকর্তা,জনপ্রতিনিধি,স্বাস্থ্যকর্মী, গণমাধ্যম ও সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। সচেতনতা বৃদ্ধিতে মাইকিংয়ের পাশাপাশি মসজিদের ইমাম ও খতিবদের মাধ্যমেও প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলেও জানান ইউএনও।
সভাপতির বক্তব্যে ডা. সিনথিয়া তাসমিন বলেন, ভিটামিন ‘এ’ শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি, রাতকানা ও অপুষ্টিজনিত অন্ধত্ব প্রতিরোধ, শারীরিক বৃদ্ধি এবং মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, কোনো শিশুকে খালি পেটে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো যাবে না। প্রতিটি কেন্দ্রে মায়েদের শালদুধ,নিয়মিত বুকের দুধ পান করানো এবং পুষ্টিকর ও রঙিন শাকসবজি খাওয়ানোর বিষয়ে পরামর্শ দেওয়া হবে।
সভায় সহকারী সার্জন ডা. সুভাষ দেবনাথ স্নিগ্ধ মাল্টিমিডিয়া উপস্থাপনার মাধ্যমে কেন্দ্রভিত্তিক লক্ষ্যমাত্রা,জনবল বণ্টন ও ক্যাম্পেইনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। স্বাস্থ্য পরিদর্শক মো. মাহবুবুর রহমান অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন স্বাস্থ্য সহকারী রুহুল আমীন এবং পবিত্র গীতা পাঠ করেন দীপন চক্রবর্তী।
সভায় বক্তারা বলেন,‘ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ান,শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি কমান’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে উপজেলার সর্বত্র ব্যাপক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ নির্ধারিত সময়ে অভিভাবকদের নিকটস্থ কেন্দ্রে শিশুদের নিয়ে গিয়ে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল গ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে।

