মাঠপর্যায়ে মাদক মাফিয়া ও পাচারকারীদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) সক্ষমতা বাড়াতে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এখন থেকে ডিএনসি কর্মকর্তাদের আধুনিক ৯ এমএম পিস্তল দেওয়া হবে এবং এ জন্য আগামী দু-এক দিনের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট আইন সংশোধন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ।
আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ‘মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার ও অবৈধ পাচারবিরোধী আন্তর্জাতিক দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, কেবল আধুনিক অস্ত্রই নয়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে একটি পূর্ণাঙ্গ ও স্বয়ংসম্পূর্ণ বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে একাধিক আধুনিক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে:
আধুনিক অস্ত্র ও প্রশিক্ষণ: মাঠপর্যায়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করা মাদক কর্মকর্তাদের আত্মরক্ষা এবং অপরাধীদের দমনে ৯ এমএম পিস্তল ও বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
ডগ স্কোয়াড ও হাজতখানা: মাদক চালানের উৎস ও অপরাধী শনাক্তে সংস্থটিতে প্রশিক্ষিত ‘ডগ স্কোয়াড’ এবং আসামিদের হেফাজতে রাখার জন্য নিজস্ব ‘হাজতখানা’ গড়ে তোলা হবে।
প্রতি জেলায় আধুনিক ল্যাব: মাদকদ্রব্য দ্রুত ও নিখুঁতভাবে পরীক্ষার জন্য দেশের প্রতিটি জেলায় একটি করে উন্নত প্রযুক্তির মাদক পরীক্ষাগার (ল্যাবরেটরি) স্থাপনের প্রস্তাব ইতোমধ্যে অনুমোদন বা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
দেশে মাদকসংক্রান্ত মামলার জট নিয়ে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, বিচারকের স্বল্পতার কারণে শুধু রাজধানী ঢাকাতেই প্রায় ৮০ হাজার মাদক মামলা নিষ্পত্তির অপেক্ষায় ঝুলে রয়েছে।
এই বিশাল মামলার জট কমাতে এবং অপরাধীদের দ্রুত শাস্তির আওতায় আনতে সরকার ‘বিশেষ আদালত’ গঠনের উদ্যোগ নিচ্ছে। মামলার সংখ্যা ও গুরুত্ব বিবেচনা করে দ্রুততম সময়ে এগুলো নিষ্পত্তির জন্য বিশেষ বিচারিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন।
বক্তব্যে দেড় শতাব্দীর পুরোনো বা ঔপনিবেশিক আমলের আইনগুলো যুগের সাথে তাল মিলিয়ে সংস্কারের ওপর জোর দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন:
“আমরা এখনও ১৮৬৭ সালের ব্রিটিশ আমলের আইন দিয়ে জুয়া-সংক্রান্ত অপরাধের সাজা নির্ধারণ করছি, যা বর্তমান প্রেক্ষাপটে হাস্যকর। সরকার এই ধরনের সমস্ত পুরোনো ও অকার্যকর আইন সংস্কারের হাত দিয়েছে (সম্প্রতি সংসদে নতুন বিল আনা হয়েছে)। একই সাথে বর্তমান যুগের ডিজিটাল ও সাইবার অপরাধ দমনে বিদ্যমান সাইবার আইনটিকে আরও কঠোর ও কার্যকর করা হচ্ছে।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যের শেষাংশে সাফ জানিয়ে দেন, মাদক নির্মূলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুততর করার মাধ্যমে দেশের ভেতর ও সীমান্ত অঞ্চলের মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে সরকার আরও কঠোর ও ‘জিরো টলারেন্স’ অবস্থান বজায় রাখবে।

