নরসিংদী ক্রাইম রিপোর্টার:
নরসিংদী সদর উপজেলার শিলমান্দী ইউনিয়নের মধ্য শিলমান্দী এলাকায় ছেলে হত্যার মামলার বাদীকে মামলা প্রত্যাহারের জন্য চাপ প্রয়োগ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় নরসিংদী সদর মডেল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার আবেদন করেছেন ভুক্তভোগী ড্রাইভার মো. রুহুল আমিন (৪১)। জিডির আবেদনে রুহুল আমিন উল্লেখ করেন, তার ছেলে ইজিবাইক চালক ফাহিম মিয়া (১৮) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তিনি নরসিংদী সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলাটি নরসিংদী সদর মডেল থানার মামলা নং-০২, তারিখ ৩ জুন ২০২৫, যা দণ্ডবিধির ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় রুজু করা হয়। মামলার অন্যতম অভিযুক্ত রায়হান মিয়া (২৭), পিতা- মাজেদুল হক, বর্তমানে নরসিংদী জেলা কারাগারে রয়েছেন।
আবেদনে আরও বলা হয়, গত ১৮ জুন ২০২৬ বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে মধ্য শিলমান্দী এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে অভিযুক্তের বাবা মাজেদুল মিয়া (৪৫) ও তার স্ত্রী খুকি বেগম (৩৫) তাকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। তিনি এতে রাজি না হলে তারা তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন।
মো. রুহুল আমিনের দাবি, অভিযুক্তরা এর আগেও তাকে একাধিকবার হুমকি দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং যেকোনো সময় তাদের ক্ষতি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এ কারণে বিষয়টি জিডিভুক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য থানার কাছে আবেদন জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে নরসিংদী সদর মডেল থানার পক্ষ থেকে অভিযোগটি যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, গত ২ জুন নরসিংদী সদর উপজেলার শিলমান্দী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা বাসচালক রুহুল আমিনের ছেলে ইজিবাইক চালক ফাহিম মিয়াকে বাড়ির পাশের জোড়া ঈদগাহের পশ্চিম পাশের একটি পুকুর থেকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ।
এর আগের রাত থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরে তার ব্যবহৃত ইজিবাইক উদ্ধার হলেও এর ব্যাটারি পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং পরবর্তীতে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

