ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের গোবিন্দনগর কনপাড়া এলাকায় একটি বসতবাড়িতে প্রবেশ করে হামলা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় একই পরিবারের তিনজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
শুক্রবার (১৯ জুন) রাতে পৌরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের গোবিন্দনগর কনপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতদের পরিবার ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য আনিসুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, শুক্রবার সন্ধ্যার পর কয়েকজন যুবক তার বাড়িতে এসে ছেলে সবুজকে বিভিন্নভাবে গালিগালাজ করতে থাকে। একপর্যায়ে সবুজ ঘর থেকে বের হলে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। তাকে রক্ষা করতে গেলে সবুজের স্ত্রী লিজা আক্তারকেও মারধর করা হয়। পরে বাধা দিতে গেলে আনিসুর রহমানের স্ত্রীও হামলার শিকার হন।
তিনি আরও বলেন, হামলাকারীরা সবুজের মাথা ফাটিয়ে দেয় এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাত করে। লিজা আক্তারের কপালসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে জখম করা হয়। এছাড়া তার স্ত্রীর মুখে আঘাত করলে দুটি দাঁত ভেঙে যায় বলে দাবি করেন তিনি।
আনিসুর রহমানের অভিযোগ, হামলার পর অভিযুক্তরাই পুলিশে খবর দিয়ে তার ছেলে সবুজকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পরে হামলার কারণ জানতে চাইলে তাকে বলা হয়, সবুজ মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তবে তিনি দাবি করেন, তার ছেলে কোনো ধরনের মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়।
সবুজের স্ত্রী লিজা আক্তার বলেন, “আমার স্বামী একজন অটোরিকশাচালক। তিনি মাদক ব্যবসায়ী নন। মিথ্যা অভিযোগ তুলে এলাকাবাসীর কিছু লোক আমাদের বাড়িতে ঢুকে মারধর করেছে। একদিকে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে, অন্যদিকে আমাদের বিরুদ্ধেই থানায় মামলা করা হয়েছে। আমার অসুস্থ স্বামী বর্তমানে কারাগারে রয়েছে। আমরা গরিব বলে কি ন্যায়বিচার পাব না?”
পরিবারের সদস্যরা বলেন, যদি সবুজের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার কোনো অভিযোগ থেকে থাকে, তাহলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আইনগত ব্যবস্থা নেবে। কিন্তু কোনো ব্যক্তিকে গণপিটুনি বা মারধর করা আইনসম্মত নয়। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের শাস্তির দাবি জানান।
এদিকে, এ ঘটনায় সবুজ ও তার স্ত্রী লিজা আক্তারকে আসামি করে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন একই এলাকার আকবর আলীর ছেলে রাকিব হোসেন।
ঘটনার বিষয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজাহান আলী বলেন, এলাকাবাসীর অভিযোগের ভিত্তিতে সবুজ ও লিজা আক্তারকে আটক করে চিকিৎসার জন্য ঠাকুরগাঁও জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ থাকলেও তাদের কাছ থেকে কোনো মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা যায়নি। চিকিৎসা শেষে অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

