শাব্বির এলাহী, কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার):
অত্যন্ত মেধাবী, মননশীল মজিদ চৌধুরী একজন সফল মানুষ, একজন সফল বাবা হিসেবে জীবন সায়াহ্নে এসে পরম আত্মতৃপ্তিতে এখন নিজ বাড়িতে সন্তান ও নাতি নাতনীদের নিয়ে বার্ধক্য কাটাচ্ছেন। বাবা দিবস উপলক্ষে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় এক অনুপ্রেরণাদায়ী পারিবারিক গল্প স্থানীয়ভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
শিক্ষা, পেশা ও সামাজিক অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত তিন সন্তানের সাফল্যের পেছনে রয়েছেন এক নিবেদিতপ্রাণ পিতা—ইঞ্জিনিয়ার হাজি আবদুল মজিদ চৌধুরী।ইঞ্জিনিয়ার হাজি আবদুল মজিদ চৌধুরী তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনে শুধু একজন দক্ষ প্রকৌশলীই নন, বরং উন্নয়নকর্মী ও সমাজসংগঠক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। বর্তমানে অবসরজীবনে নিজ গ্রাম কোনাগাঁওয়ে বসবাস করে তিনি মণিপুরী জনগোষ্ঠীর শিক্ষা, সংস্কৃতি ও সামাজিক উন্নয়নে অবদান রেখে চলেছেন।
১৯৬০-এর দশকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে ডিপ্লোমা অর্জনের পর তিনি সরকারি ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে দায়িত্ব পালন করেন। যশোর, খুলনা, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে কাজ করার পাশাপাশি ড্যানিডা (DANIDA) ও ব্রিটিশ হাই কমিশনের অধীনে বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সাইক্লোন শেল্টার নির্মাণ প্রকল্পেও দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন।পেশাগত জীবনের পাশাপাশি তিনি ‘বাংলাদেশ মণিপুরী মুসলিম ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (BAMDO)’ প্রতিষ্ঠা করেন এবং মণিপুরী সংস্কৃতির বিকাশে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
তিন সন্তানের সাফল্যের গল্প
এই পিতার অনুপ্রেরণা ও দিকনির্দেশনায় তাঁর তিন সন্তান আজ নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত।
বড় মেয়ে রওশন আরা চৌধুরী বর্তমানে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। তিনি সিলেট সরকারি মহিলা কলেজ ও এমসি কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়ন শেষে শিক্ষা ও মানবসেবামূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন।
বড় ছেলে এমডি আব্দুর রহিম চৌধুরী আন্তর্জাতিক মানের মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষায় শিক্ষিত। তিনি ফিলিপাইনের ইউনিভার্সিটি অব সেবু থেকে বিএসসি ইন মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এর আগে সাভার ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন।
ছোট ছেলে মো. আব্দুর রাফি চৌধুরী একজন ব্যাংকার। বর্তমানে অগ্রণী ব্যাংক পিএলসি’র ভানুগাছ বাজার শাখায় কর্মরত। তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ ও এমবিএ ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ব্যাংকিং খাতে তাঁর কর্মদক্ষতা স্থানীয়ভাবে প্রশংসিত।
পারিবারিক পরিসরের বাইরে গিয়েও ইঞ্জিনিয়ার আবদুল মজিদ চৌধুরী বিশ্বাস করেন, শিক্ষাই সন্তানের প্রকৃত সম্পদ। কঠোর পরিশ্রম, নৈতিক মূল্যবোধ ও দায়িত্ববোধের শিক্ষা দিয়েই তিনি সন্তানদের গড়ে তুলেছেন।স্থানীয়দের মতে, তাঁর জীবন শুধু একটি পরিবারের সাফল্যের গল্প নয়; বরং কমলগঞ্জের বহু তরুণের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।
বাবা দিবসে মজিদ চৌধুরীর গল্পটি আবারও মনে করিয়ে দেয়—একজন বাবার ত্যাগ, শ্রম ও স্বপ্নই হতে পারে একটি প্রজন্মের সাফল্যের ভিত্তি। কমলগঞ্জের এই পরিবার তারই বাস্তব উদাহরণ, যেখানে একজন পিতার পরিশ্রম ও দূরদর্শিতা আজ তিন সন্তানের সফল জীবনে প্রতিফলিত হয়েছে।

