সংসারে প্রতিটি সন্তানের কাছে বাবা যেন এক বটবৃক্ষ—যার ছায়ায় নিরাপত্তা, নির্ভরতা আর ভালোবাসার আশ্রয় মেলে। শাসন আর স্নেহের মিশেলে গড়া এই সম্পর্ক ভাষা ও সংস্কৃতি ভেদে ভিন্ন হলেও বাবার প্রতি সন্তানের ভালোবাসা সর্বজনীন ও চিরন্তন।
প্রতি বছর জুন মাসের তৃতীয় রোববার বিশ্বজুড়ে পালিত হয় ‘বিশ্ব বাবা দিবস’। সেই ধারাবাহিকতায় রোববার (২১ জুন) নানা আয়োজন ও ভালোবাসার মধ্য দিয়ে দিনটি উদযাপন করা হচ্ছে বিভিন্ন দেশে।
অনেকেই এই দিনে বাবার সঙ্গে সময় কাটানো, উপহার দেওয়া কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগ প্রকাশের মাধ্যমে দিনটি স্মরণীয় করে তোলেন। তবে এই দিবসের সূচনা ও ইতিহাস অনেকের কাছেই অজানা।
ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, ১৯০৮ সালের ৫ জুলাই যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিম ভার্জিনিয়ার ফেয়ারমন্টে একটি গির্জায় প্রথমবারের মতো বাবা দিবস পালিত হয়। পরবর্তীতে দিবসটিকে জনপ্রিয় ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখেন সনোরা স্মার্ট ডড।
মা দিবসের মতো বাবাদের জন্যও একটি বিশেষ দিন থাকা উচিত—এই ভাবনা থেকেই তিনি ১৯১০ সালের ১৯ জুন প্রথমবার বাবা দিবস উদযাপনের উদ্যোগ নেন। তার এই প্রচেষ্টা ধীরে ধীরে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে।
পরবর্তীতে ১৯৬৬ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট লিন্ডন বি. জনসন জুন মাসের তৃতীয় রোববারকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ফাদার্স ডে’ হিসেবে ঘোষণা করেন। এরপর থেকে বিশ্বের অনেক দেশেই দিনটি নিয়মিতভাবে পালিত হয়ে আসছে।
সন্তানের জীবনে বাবা শুধু একজন অভিভাবক নন, বরং সংগ্রাম, ত্যাগ ও ভালোবাসার প্রতীক। এই বিশেষ দিনে বাবাদের প্রতি ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশের মাধ্যমে দিনটি হয়ে ওঠে আরও অর্থবহ।

