পশ্চিমবঙ্গে টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকা মমতা ব্যানার্জীর নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস ভোটের ফল ঘোষণার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই বড় ধরনের রাজনৈতিক সংকটে পড়েছে বলে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে। বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, দলটি অভ্যন্তরীণ বিভাজনের কারণে কার্যত তিনটি পৃথক অবস্থানে বিভক্ত হয়ে পড়েছে।
ভোটে পরাজয়ের পর দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আগে থেকেই কিছু রাজনৈতিক পূর্বাভাস থাকলেও এত দ্রুত এমন ভাঙনের পরিস্থিতি তৈরি হবে—তা অনেকেই অনুমান করতে পারেননি। বর্তমানে দলটির ভেতরে একাধিক পৃথক রাজনৈতিক বলয় সক্রিয় বলে দাবি করা হচ্ছে।
একটি অংশ পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় নতুন একটি গোষ্ঠী হিসেবে সংগঠিত হয়েছে বলে জানা যায়, যারা নিজেদের ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে দাবি করছে। অন্যদিকে দিল্লিতে নির্বাচিত কিছু সংসদ সদস্য দলীয় অবস্থান থেকে সরে গিয়ে ভিন্ন রাজনৈতিক সমর্থনের দিকে ঝুঁকছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
আরও একটি অংশে রয়েছেন মমতা ব্যানার্জী ও অভিষেক ব্যানার্জীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় শিবির, যারা দলীয় নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার চেষ্টা করছেন বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দলের সংগঠনগত ঐক্য প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূল কংগ্রেসের এই পরিস্থিতির পেছনে কয়েকটি মৌলিক কারণ রয়েছে। প্রথমত, দলটির দীর্ঘদিনের রাজনীতি মূলত নির্বাচনকেন্দ্রিক হওয়ায় একটি সুস্পষ্ট আদর্শিক ভিত্তি গড়ে ওঠেনি বলে অভিযোগ করা হয়। ফলে নির্বাচনি সাফল্যের বাইরে দলীয় সংহতি দুর্বল হয়ে পড়ে।
দ্বিতীয়ত, কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে ক্ষমতাসীন দলের কৌশলগত চাপ ও প্রভাব এই বিভাজনকে আরও ত্বরান্বিত করেছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা। বিদ্রোহী গোষ্ঠীর উত্থান এবং তাদের রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের পেছনে বাইরের রাজনৈতিক সমর্থনের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা রয়েছে।
তৃতীয় কারণ হিসেবে দলীয় সংগঠনের ভেতরের নেতৃত্ব কাঠামো ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তৃণমূলের তরুণ নেতৃত্ব ও পুরনো সংগঠকদের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হওয়াকে অনেকেই অভ্যন্তরীণ অস্থিরতার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন।
সব মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গনে তৃণমূল কংগ্রেসের বর্তমান অবস্থাকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। দলটি এই সংকট কাটিয়ে কতটা দ্রুত ঐক্য পুনরুদ্ধার করতে পারবে, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।

