রিজওয়ান, নওগাঁ প্রতিনিধি:
নওগাঁ জেলার সদর উপজেলার বোয়ালিয়া ইউনিয়নের নতুন সাহাপুর গ্রামে হাঁস পালন ব্যবসাকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হামলা, মারধর, ভাঙচুর ও চুরির ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার ১নং বেয়াদব আসামি মোঃ মতিনকে অবশেষে গ্রেফতার করে গতকালই আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নতুন সাহাপুর গ্রামের বাসিন্দা মোঃ ইসমাইল হোসেনের সঙ্গে আসামি মোঃ মতিনের যৌথ হাঁস পালন ব্যবসা ছিল। ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে উভয়ের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয় এবং পরবর্তীতে তা শত্রুতায় রূপান্তরিত হয়। অভিযোগ রয়েছে, গত ৬ জুন ২০২৬ বিকেলে ইসমাইল হোসেন ঢাকায় অবস্থানকালে তার অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে মোঃ মতিনসহ অন্যান্য আসামিরা সংঘবদ্ধভাবে তার বাড়িতে হামলা চালায়।
এ ঘটনায় ইসমাইল হোসেনের মা মোছাঃ জাহানারা বেগম (৫৯) গুরুতর আহত হন। অভিযোগে বলা হয়েছে, তার মাথা, হাত ও কোমরে লোহার রড ও লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয়, ফলে তার হাড় ভেঙে যায় এবং তাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। এছাড়া ইসমাইল হোসেনের মেয়ে ইসরাত জাহান উর্মিকেও মারধর করা হয়। আসামিদের বিরুদ্ধে নগদ অর্থ চুরি, বসতবাড়ি ভাঙচুর এবং প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগও আনা হয়েছে।
এদিকে, স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হামলার ঘটনার পর মামলার বাদী ও তার পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশ্য করে জনসম্মুখে অশ্লীল ও নোংরা উসকানিমূলক আচরণ করেন ১নং আসামি মোঃ মতিন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি প্রকাশ্যে লুঙ্গি উচিয়ে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গি প্রদর্শন করে বলেন, “মামলা করে আমার বাল তুলবি তোরা। টাকা যার, কোর্ট-কাচারী, থানা-পুলিশ তার।”
এ ধরনের বক্তব্য শুধু বাদীপক্ষকে ভয়ভীতি ও অপমান করার উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়নি, বরং বিচার প্রক্রিয়া , আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং আদালতের প্রতি তীব্র অবমাননাকর ও অবজ্ঞাসূচক বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। তাদের মতে, এ ধরনের প্রকাশ্য উসকানি ও অশ্লীল আচরণ সমাজে আইনের শাসন ও বিচারপ্রার্থীদের নিরাপত্তাকে ও প্রশ্নবিদ্ধ করে।
বাদীপক্ষের দাবি, ঘটনার পর থেকে আসামিরা বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছিলেন এবং প্রভাব-প্রতিপত্তির কথা বলে মামলাটি প্রত্যাহারের জন্য চাপ সৃষ্টি করছিলেন। অবশেষে প্রধান অভিযুক্ত মোঃ মতিন গ্রেফতার হওয়ায় তারা ন্যায়বিচার পাওয়ার বিষয়ে আশাবাদী হয়েছেন।
তবে মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন থাকায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ আদালতে বিচার ও তদন্তের মাধ্যমে প্রমাণিত হওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করবে।
বাদীপক্ষের প্রত্যাশা, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদেরও দ্রুত গ্রেফতার করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে ভুক্তভোগী পরিবারকে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।

