সত্যজিৎ দাস:
চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে শশুরবাড়ির সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে দায়ের হওয়া হত্যাচেষ্টা মামলার তিন পলাতক আসামিকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-৯।
রোববার (১৪ জুন) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব-৯-এর মিডিয়া অফিসার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ এ তথ্য জানান।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়,চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের সুপারি ব্যবসায়ী হাজী আব্দুল আউয়াল তার শ্বশুরের সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আত্মীয়স্বজনদের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে ছিলেন। এর জেরে গত ৮ জুন সন্ধ্যায় কয়েকজন নামীয় আসামিসহ ৩০ থেকে ৩৫ জনের একটি সশস্ত্র দল তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলা চালায়।
অভিযোগ অনুযায়ী,হামলাকারীরা দোকানে প্রবেশ করে বাদীর বোন জামাই মো. শওকত আলী,বোন শিরিন আক্তার ও কর্মচারীদের মারধর করে গুরুতর আহত করে। একপর্যায়ে মো. রনি ধারালো অস্ত্র দিয়ে শওকত আলীর মাথায় আঘাত করলে তিনি গুরুতর জখম হন। হামলার সময় দোকানের ক্যাশবক্স থেকে ৩২ লাখ ৪০ হাজার টাকা, বিভিন্ন ব্যাংকের চেক বই ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র চুরিরও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া দোকানের কর্মচারী মো. জাহেদকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও করা হয়।
এ ঘটনায় হাজী আব্দুল আউয়াল বাদী হয়ে চট্টগ্রাম কোতোয়ালী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে র্যাব-৯ ছায়া তদন্ত ও গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে।
এর ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১২ জুন রাত সাড়ে ৮টার দিকে সিলেট মহানগরের এয়ারপোর্ট থানার বড়শালা ফুডপার্ক এলাকার সামনে অভিযান চালিয়ে মামলার এজাহারভুক্ত তিন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন মো. রনি (৩৫), মো. ফারুক খান (৫২) ও রুমা আক্তার (৩৫)। তাদের বাড়ি চট্টগ্রামের কর্ণফুলী ও বন্দর থানা এলাকায়।
র্যাব জানায়,গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম কোতোয়ালী থানায় দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় দায়ের করা মামলার অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব-৯ জানিয়েছে,দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তাদের গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।

