তজুমদ্দিন (ভোলা) প্রতিনিধি:
ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার চর মোজাম্মেল এলাকায় সালাউদ্দিন নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অস্ত্রের মহড়া, জমিজমা দখল, ভয়ভীতি প্রদর্শন, ডাকাতি ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন তারা।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে চর মোজাম্মেলের এক নারী সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তুলে ধরেন। ভিডিওতে তিনি দাবি করেন, দীর্ঘদিন ধরে তার কর্মকাণ্ডে এলাকার সাধারণ মানুষ আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করছেন। নদীতে ডাকাতি, গবাদিপশু চুরি, বসতবাড়িতে হামলা এবং বিভিন্নভাবে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও করেন তিনি। এসব ঘটনার প্রতিবাদ করলে হুমকি ও চাপের মুখে পড়তে হয় বলেও দাবি করেন ওই নারী।
স্থানীয় বাসিন্দা সেলিম মাঝি অভিযোগ করে বলেন, সালাউদ্দিনের কাছে আধুনিক ও বিদেশি বিভিন্ন ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র রয়েছে। তিনি দাবি করেন, নিজ চোখে তিনি সালাউদ্দিনের হাতে একাধিক বিদেশি অস্ত্র দেখেছেন। তার ভাষ্যমতে, এসব অস্ত্র ব্যবহার করে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করা হয় এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়।
সেলিম মাঝি আরও অভিযোগ করেন, সালাউদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে নদীকেন্দ্রিক বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। পাশাপাশি চরাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে জমিজমা দখল, ভূমি সংক্রান্ত বিরোধে প্রভাব বিস্তার এবং অসহায় মানুষের সম্পত্তি জবরদখলের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো আদালতের রায় বা প্রশাসনিক তদন্ত প্রতিবেদন তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, অভিযোগের বিষয়ে প্রকাশ্যে কথা বলতে অনেকে ভয় পান। তাদের দাবি, প্রতিবাদ বা অভিযোগ করলে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়। ফলে অনেক ভুক্তভোগী প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পান না।
এলাকাবাসীর ভাষ্যমতে, দীর্ঘদিন ধরে চলমান এসব অভিযোগের কারণে চর মোজাম্মেল এলাকায় উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা বিরাজ করছে। তারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে অভিযুক্ত সালাউদ্দিন তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, তিনি দীর্ঘদিন চরে সততার সাথে কাজ করেছেন এবং তার বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ থাকলে তা প্রকাশের চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন।
এই বিষয়ে তজুমদ্দিন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জানান, পুলিশ বিষয়টি সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নিচ্ছে। ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তবে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে চরাঞ্চলের সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে আসবে।

