গ্রীষ্মকালের অন্যতম রসালো এবং পুষ্টিকর ফল কাঁঠাল। তবে পুষ্টিগুণে ভরপুর হলেও ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য কাঁঠাল সম্পূর্ণ নিরাপদ নয়। কাঁঠালের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (GI) মাঝারি (৫০-৬০) হলেও এতে শর্করা বা কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। তাই ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে এবং নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে এই ফলটি খাওয়া উচিত।
ডায়াবেটিস রোগীদের শরীরে কাঁঠালের প্রভাব এবং এটি গ্রহণের কিছু জরুরি নিয়ম নিচে আলোচনা করা হলো:
১. রক্তে সুগার বৃদ্ধির ঝুঁকি
কাঁঠালে থাকা উচ্চ কার্বোহাইড্রেট রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য একসঙ্গে অনেক কাঁঠাল খাওয়া একদমই উচিত নয়।
২. পরিমাপ ও খাওয়ার নিয়ম
নির্দিষ্ট পরিমাণ: ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগীরা একবারে সর্বোচ্চ ৫০ থেকে ৭৫ গ্রাম (অর্থাৎ মাঝারি আকারের ২ থেকে ৩ কোয়া) কাঁঠাল খেতে পারেন।

বিরতি দিয়ে খাওয়া: একসঙ্গে সবটুকু না খেয়ে সারা দিনে বিরতি দিয়ে বা ভাগ করে কাঁঠাল খাওয়া ভালো। এতে রক্তে সুগারের মাত্রা হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়ার (Spike) ঝুঁকি থাকে না।
৩. কাঁঠালের ইতিবাচক দিক
নিষেধাজ্ঞা থাকলেও কাঁঠালের কিছু চমৎকার স্বাস্থ্যগুণ রয়েছে, যা শরীরের জন্য উপকারী:
প্রচুর ফাইবার: কাঁঠালে প্রচুর আঁশ বা ফাইবার থাকে, যা হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে এবং রক্তে শর্করা শোষণের গতি নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
রক্তচাপ ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা: এতে থাকা উচ্চ পটাশিয়াম ও ভিটামিন ‘সি’ উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করতে এবং শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে দারুণ ভূমিকা রাখে।
পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, পাকা কাঁঠালের চেয়ে কাঁচা কাঁঠাল বা এঁচোড় ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য অনেক বেশি উপকারী। কারণ কাঁচা কাঁঠালে ক্যালোরি এবং গ্লাইসেমিক ইনডেক্স— দুই-ই পাকা কাঁঠালের চেয়ে বেশ কম থাকে। ফলে এটি রান্না করে খেলে রক্তে সুগার বাড়ার আশঙ্কা থাকে না বললেই চলে।
ডায়াবেটিসের মাত্রা এবং শারীরিক অবস্থা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। তাই কাঁঠাল খাওয়ার আগে আপনার নিয়মিত চিকিৎসকের কাছ থেকে রক্তের বর্তমান সুগারের মাত্রা অনুযায়ী পরিমাণটি নির্ধারণ করে নেওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।

