আগামী অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে ব্যাপক করছাড়ের পাশাপাশি করজাল সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। প্রস্তাবিত বাজেটে সৃজনশীল অর্থনীতি, ওষুধ শিল্প ও তরুণ উদ্যোক্তা খাতকে উৎসাহ দিতে একাধিক শুল্ক ও কর ছাড়ের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে। একই সঙ্গে করদাতার আওতা বাড়াতে কিছু কঠোর করনীতি চালুর প্রস্তাবও রয়েছে।
নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে কর শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার আগে টিআইএন সনদ গ্রহণ করতে হবে। যদিও শিক্ষার্থী, সামাজিক নিরাপত্তা ভাতা গ্রহণকারী এবং ন্যূনতম ব্যাংক হিসাবধারীদের ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
খুচরা ব্যবসায়ীদের ক্ষেত্রেও নতুন অগ্রিম কর কাঠামো প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে পণ্য সরবরাহ পর্যায়ে প্রতি ১ হাজার টাকার লেনদেনে ২ টাকা কর কেটে নেওয়ার উদ্যোগ থাকতে পারে, যা সরাসরি সরকারি কোষাগারে জমা হবে।
অন্যদিকে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাল, ডাল, তেল, চিনি, পেঁয়াজসহ প্রায় ৬০টি পণ্যের ওপর উৎসে কর কমানোর প্রস্তাব রয়েছে। একই সঙ্গে গিটার, পিয়ানো, ভায়োলিনসহ সৃজনশীল শিল্পসংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতির আমদানিতে শুল্ক হ্রাস বা প্রত্যাহারের পরিকল্পনা রয়েছে।
চিকিৎসা খাতে ব্যয় কমাতে হার্টের রিং, ডায়ালাইসিস উপকরণ, কিডনি চিকিৎসার সরঞ্জাম এবং ইন্ট্রাওকুলার লেন্সসহ বিভিন্ন মেডিকেল পণ্যের ওপর ভ্যাট ও অগ্রিম কর কমানো বা প্রত্যাহারের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এতে চিকিৎসা ব্যয় কিছুটা কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
সোনার গয়না কেনাবেচায় বিদ্যমান ভ্যাট কাঠামো পরিবর্তনের প্রস্তাবও বাজেটে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে বলে জানা গেছে। এতে স্বর্ণালংকারের দাম কিছুটা কমতে পারে।
বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি) আমদানিতে শুল্ক-কর কাঠামো পুনর্বিন্যাসের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি চার্জিং স্টেশন ও সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি আমদানিতে করছাড়ের প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে।
এ ছাড়া কনটেন্ট ক্রিয়েটর, ফ্রিল্যান্সার এবং স্টার্টআপ খাতের ওপর আরোপিত কিছু ভ্যাট প্রত্যাহারের পরিকল্পনা রয়েছে, যা ডিজিটাল ও সৃজনশীল অর্থনীতিকে উৎসাহ দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদ ও ব্যবসায়ী মহল বলছে, একদিকে করছাড়ের মাধ্যমে বিনিয়োগ ও খরচ বাড়ানোর চেষ্টা করা হলেও অন্যদিকে করজাল সম্প্রসারণের মাধ্যমে রাজস্ব বাড়ানোর উদ্যোগ বাজেটের ভারসাম্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

