ক্রাইম রিপোর্টার:
রংপুর সদর উপজেলার চন্দনপাট ভূমি অফিসকে ঘিরে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সেবা গ্রহীতাদের অভিযোগ, জমির শ্রেণি পরিবর্তন, নামজারি ও বিভিন্ন সেবার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত টাকা আদায় করা হচ্ছে। পাশাপাশি সময়মতো অফিসে না আসা এবং দালালচক্রের মাধ্যমে কাজ পরিচালনার অভিযোগও রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
জানা যায়, চন্দনপাট ভূমি অফিসের ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মোঃ মুকুল মিয়ার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়মের অভিযোগ করে আসছেন ভুক্তভোগীরা। স্থানীয়দের দাবি, জমির শ্রেণি পরিবর্তনের জন্য সরকারি ফি’র বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে দালালের মাধ্যমে কাজ করতে বাধ্য করা হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
এছাড়াও অভিযোগ রয়েছে, গংগাচড়া এলাকা থেকে সদরে বদলি হয়ে আসার জন্য মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেনের ঘটনাও এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, ভূমি অফিসে সাধারণ মানুষ সেবা নিতে গিয়ে নানা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। কেউ কেউ অভিযোগ করেন, “টাকা ছাড়া ফাইল নড়ে না” এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে অফিসটিতে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত কর্মকর্তা মোঃ মুকুল মিয়া বলেন, এই সব কি আমি একাই করছি। রাষ্ট্রের মগজ থেকে আসতে হবে। আমার এখানে বদলি হয়ে আসতে প্রায় এক লক্ষ টাকা দিতে হয়েছে কোন অদৃশ্য ব্যাক্তিকে। তিনি আরো বলেন, এক ফাইল পাশ করিয়ে আনতে উপর মহলে টাকা দিতে হয়। তা নাহলে ফাইল নড়ে না। তিনি জোড় দাবী দিয়ে বলেন রাষ্ট্রের সবাই যখন দুর্নীতি করে আমার করলে সমস্যা কোথায়?
এই বিষয়ে রংপুর সদর ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার (ভুমি) মোঃ দুলাল হোসেন বলেন, এই রকম করার কোন সুযোগ নিয়েই। আমরা তার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করে বিভাগীয় ব্যাবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ বিষয়ে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, জনগণের সেবার জায়গায় যদি দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে, তাহলে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া উচিত। তারা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

