মিজানুর কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক ড. আতিকুর রহমান মোজাহিদ বলেছেন, কুড়িগ্রামের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে দায়িত্বপ্রাপ্ত অনেক কর্মকর্তা জনগণের প্রত্যাশিত সেবা দিতে ব্যর্থ হচ্ছেন এবং তাদের মধ্যে কেউ কেউ “জনগণবিরোধী আচরণে” লিপ্ত।
মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে কুড়িগ্রাম আলিয়া কামিল মাদ্রাসার শিক্ষক মিলনায়তনে একটি কর্মসূচি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, কেউ কেউ বলার চেষ্টা করছে এমপি সাহেবের বরাদ্দ ফেরত যাচ্ছে। আমি কুড়িগ্রামের মানুষের জন্য সংসদে কথা বলি এবং মন্ত্রীদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে যোগাযোগ করে উন্নয়ন বরাদ্দ আনার চেষ্টা করি। কিন্তু স্থানীয় দপ্তরগুলোতে কিছু কর্মকর্তা সহযোগিতা করছেন না। সদর, রাজারহাট ও ফুলবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদের প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, তাদের অনেকেই নিজেদের “স্যার সংস্কৃতি” ধরে রাখতে পছন্দ করেন এবং জনগণকে কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে অনাগ্রহী।
তিনি আরও বলেন, অনেকেই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে আর্থিক সুবিধা নিতে অভ্যস্ত। তারা জনগণকে কষ্ট দিতে পছন্দ করেন এবং এখনো ফ্যাসিস্ট ধাঁচের আচরণ বজায় রেখেছেন।
ভূমি অফিস ও উপজেলা প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও অভিযোগ তুলে এমপি মোজাহিদ বলেন, একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী সিন্ডিকেট করে বিভিন্ন সুবিধা নিয়ন্ত্রণ করছে এবং তাকে উন্নয়ন কাজ করতে সহযোগিতা করছে না।
টিআর ও কাবিখা বরাদ্দ প্রসঙ্গে তিনি কঠোর অবস্থান জানিয়ে বলেন, এসব বরাদ্দ জনগণের উন্নয়নের জন্য। কোনো অবস্থাতেই ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত সুবিধার জন্য এক টাকাও ব্যবহৃত হতে দেওয়া হবে না।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যদি কেউ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কাজ বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করে, তাহলে বিষয়টি জনগণের সামনে তুলে ধরা হবে।
কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতাল নিয়ে ছড়ানো গুজবের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে প্রতি মাসে ১৪ লাখ টাকা তোলার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও অপপ্রচার। তিনি এসব অভিযোগের প্রমাণ দিতে সাংবাদিকদের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন এনসিপির জেলা আহ্বায়ক মুকুল মিয়া, সদস্য সচিব মাসুম মিয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদুজ্জামান তাওহীদসহ দলীয় নেতাকর্মী ও বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা।
#

