ওমর ফারুক, নরসিংদী প্রতিনিধি:
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলা শ্রমিক দলের অব্যাহতি পাওয়া সভাপতি মোঃ মুসা মিয়া জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দের উদ্দেশ্যে একটি খোলা চিঠি প্রকাশ করেছেন।
চিঠিতে তিনি দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের ত্যাগ, নির্যাতন ও কারাভোগের কথা তুলে ধরে সাম্প্রতিক সময়ে দলীয় কার্যক্রম থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
খোলা চিঠিতে মুসা মিয়া দাবি করেন, ১৯৭৮ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তার রাজনৈতিক জীবনের শুরু। এরপর বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে গিয়ে একাধিকবার মামলা, হামলা ও রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন তিনি।
তিনি উল্লেখ করেন, বিগত সরকারের সময় রাজনৈতিক মামলায় তাকে কারাবরণ করতে হয়েছে। ২০১৪ সালে দীর্ঘ সময় নরসিংদী জেলা কারাগারে আটক ছিলেন বলেও জানান তিনি। এছাড়া ২০২২ সালের ৭ ডিসেম্বর বিএনপির কেন্দ্রীয় সমাবেশে যোগ দিতে ঢাকায় যাওয়ার পথে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে পুলিশের হামলা ও টিয়ার গ্যাসে আহত হয়ে প্রায় দেড় ঘণ্টা অচেতন ছিলেন বলে চিঠিতে উল্লেখ করেন।
মুসা মিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই সময় গ্রেপ্তারের পর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসসহ বিভিন্ন নেতাকর্মীর সঙ্গে কারাবন্দি ছিলেন তিনি।
পরবর্তীতে প্রায় তিন মাস কাশিমপুর ও ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি জীবন কাটাতে হয় বলেও দাবি করেন।
খোলা চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পরিকল্পিতভাবে তাকে দলীয় কার্যক্রম থেকে দূরে রাখা হয়েছে।
তার দাবি, কয়েকদিন আগে মাগরিবের নামাজের সময় স্বতন্ত্র প্রার্থী জামাল আহমেদ চৌধুরীর সঙ্গে শ্রীনগর রেলগেইট এলাকায় সৌজন্য সাক্ষাতের একটি ছবি গোপনে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। পরে সেটিকে কেন্দ্র করে তার বিরুদ্ধে দলীয় হাইকমান্ডে অভিযোগ দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, ওই ঘটনাকে ইস্যু করে তাকে দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে সংগঠনের সব কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তবে এটি মূলত তার রাজনৈতিক জনপ্রিয়তা ও প্রভাব কমানোর ষড়যন্ত্র বলেও দাবি করেন তিনি।
চিঠিতে মুসা মিয়া আরও উল্লেখ করেন, ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রায়পুরার সেরাজনগর এম এ পাইলট মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে স্বতন্ত্র প্রার্থী জামাল আহমেদ চৌধুরী মাত্র ৩৭ ভোট পেয়েছেন। অথচ ওই কেন্দ্রে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার ভোটার রয়েছেন। এরপরও তাকে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি বলেন, “আমি, আমার পরিবার এবং আত্মীয়-স্বজনদের ভোটই প্রায় ৮০ থেকে ৯০টি। তারপরও আমার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ এনে সংগঠন থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।”
খোলা চিঠির শেষাংশে তিনি জেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে তথ্যভিত্তিক ও ন্যায়সঙ্গতভাবে মূল্যায়ন করা হোক। একইসঙ্গে তিনি দলীয় নেতৃত্বের সুদৃষ্টি কামনা করেন।

