ববি প্রতিনিধি :
ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ করে পদোন্নতির দাবিতে আন্দোলনকারী বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষকদের আন্দোলন সফলতার মুখ দেখেনি। শূন্য হাতেই শিক্ষকদের ঘরে ফিরতে হয়েছে। কিন্তু এই আন্দোলনে হাজারো শিক্ষার্থীর স্বপ্নের ভঙ্গ হয়েছে।
শনিবার (১৬ই এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমাজের পক্ষ থেকে প্রেরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে নতুন উপাচার্যের সাথে শিক্ষকদের আলোচনাসভা শেষে শিক্ষকরা আন্দোলন শেষ করে ক্লাস-পরীক্ষায় ফেরার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে।
আন্দোলনকারী একাধিক শিক্ষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদের সাথে পদোন্নতি জটিলতার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি আলাপ আলোচনার মাধ্যমে একটি সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। এতে আশ্বস্ত হয়ে আপাতত তারা আন্দোলন শেষ করে ক্লাস-পরীক্ষায় ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। যদিও বিশ্ববিদ্যালয় আগামীকাল থেকে ঈদুল আজহার ছুটিতে যাচ্ছে।
শিক্ষকরা অধ্যাপক পদে পদোন্নতির যে দাবিতে আন্দোলনে নেমেছিলেন গত ২১ ই এপ্রিল তার সমাধান না নিয়েই ঘরে ফিরতে হয়েছে শিক্ষকদের। নতুন উপাচার্য শিক্ষকদের পদোন্নতির বিষয়টি আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। শিক্ষকরা সমাধানের এই আশ্বাসে আশ্বস্ত হতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারী একাধিক শিক্ষক। নাম প্রকাশ না করার শর্তে পদোন্নতি প্রত্যাশি এক শিক্ষক বলেন, আগের উপাচার্যের মতো এই উপাচার্যও যদি বিষয়টও নিয়ে ঢিলেমি করে তাহলে আমাদেরকে বিষয়টি নিয়ে পুনরায় ভাবতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ এপ্রিল থেকে শিক্ষকদের আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের বাতিল হয়েছে ৪৬টি ফাইনাল পরীক্ষা সাথে বাতিল হয়েছে মিডটার্ম, ভাইভাসহ একাধিক একাডেমিক কার্যক্রম। যাতে প্রত্যেকটি শিক্ষারর্থী সেশনজটের করালগ্রাসে পড়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০ থেকে ১৫ জন শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলে জানাগেছে এই আন্দোলনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে শিক্ষার্থীরাই। তাদের ক্লাস-পরীক্ষা বাতিল বন্ধ করে পদোন্নতির দাবি নিয়ে আন্দোলন করেছেন শিক্ষকরা কিন্তু তাদের আন্দোলন সফলতার মুখ দেখেনি খালি হাতে তাদেরকে আন্দোলন শেষ করতে হয়ছে। তাহলে এই আন্দোলনের যৌক্তিকতা কোথায়? শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি দিয়ে সেশনজট বাড়িয়ে আন্দোলন কেন করলেন তারা।
বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ২০২-২১ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থী, ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ করে শিক্ষকরা যে আন্দোলন করলেন তাদের দাবি তো পূরন করতে পারলেন না। মাঝখান দিয়ে আমাদের সেশনজটের আগুনে পুঁড়ছে আমাদের জীবন।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য সহযোগী অধ্যাপক ড. আবদুল আলিম বছির বলেন, নবনিযুক্ত উপাচার্যের সাথে আজকে আমাদের আলোচনাসভা হয়েছে। আলোচনায় তিনি সকল শিক্ষকদের জন্য পদোন্নতির বিষয়ে যোক্তিক একটা সমাধানের কথা বলেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সাদেকুর রহমান বলেন, উপাচার্যের সাথে পদোন্নতি জটিলতার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন দ্রুত একটা সমাধান দিবেন। আমরাও আশাকরছি দ্রুত সমাধান করবেন বিষয়টি। আগের প্রশাসনের মতো বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘসূত্রিতা করলে শিক্ষকদের মনোবল ভেঙে যাবে বলে মনে করেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মামুন অর রশিদ বলেন, শিক্ষকদের সাথে আজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংকট ও সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। পদোন্নতির বিষয়টি নিয়েও আলোচনা হয়েছে এই বিষয়টি নিয়ে আমরা একসাথে যৌক্তিক একটা সমাধানের পথ বের করবো বলে জানিয়েছি। আশাকরছি বিষয়টি সমাধান হয়েযাবে ইউজিসির সাথেও বিষয়টি নিয়ে আমাদের আলোচনা করতে হবে এবং যেকোনো একটি উপায়ে সমাধান বের করতে হবে।

