মধ্যপ্রাচ্যের দুই শক্তিশালী দেশ ইরান ও সৌদি আরবের মধ্যে চলমান চরম উত্তেজনার মাঝে এক বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, গত মার্চ মাসে সৌদি আরবের অভ্যন্তরে ইরানের হামলার প্রতিশোধ নিতে সৌদি বিমানবাহিনী সরাসরি ইরানি ভূখণ্ডে একাধিক গোপন সামরিক অভিযান চালিয়েছে।
পশ্চিমা ও ইরানি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, ইতিহাসে এই প্রথম সৌদি আরব সরাসরি ইরানের মাটিতে সামরিক হামলা চালাল। বিশ্লেষকদের মতে, এটি রিয়াদের দীর্ঘদিনের রক্ষণাত্মক কৌশলে এক আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত। যুক্তরাষ্ট্রের প্রথাগত নিরাপত্তা বলয় কিছুটা দুর্বল হয়ে পড়ায় সৌদি আরব এখন নিজেদের সুরক্ষায় অনেক বেশি আক্রমণাত্মক ও সাহসী অবস্থান নিচ্ছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শুধু সৌদি আরবই নয়, সংযুক্ত আরব আমিরাতও ইরানের ওপর একাধিক গোপন হামলা চালিয়েছে। বিশেষ করে গত ৫ এপ্রিল আমিরাতের বরুজ পেট্রোকেমিক্যাল সাইটে ইরানি হামলার জবাবে ইসরায়েলের সাথে সরাসরি সমন্বয় করে ইরানের ‘সাউথ পার্স পেট্রোকেমিক্যাল কমপ্লেক্সে’ যৌথ আক্রমণ চালায় আমিরাত। এছাড়া যুদ্ধ চলাকালে ইসরায়েল আমিরাতকে তাদের বিখ্যাত ‘আয়রণ ডোম’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে সহায়তা করেছে বলেও জানা গেছে।
মার্চের শেষ সপ্তাহে শতাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হওয়ার পর সৌদি আরব পাল্টা আঘাত হানে এবং তেহরানকে কঠোর হুঁশিয়ারি দেয়। রয়টার্সের তথ্যমতে, এই পাল্টা হামলার পর এপ্রিলের শুরুতে উভয় পক্ষ একটি অনানুষ্ঠানিক ও গোপন সমঝোতায় পৌঁছায়, যার ফলে হামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে। এই সমঝোতাটি গত ৭ এপ্রিল ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার আনুষ্ঠানিক যুদ্ধবিরতির ঠিক আগেই কার্যকর হয়েছিল।
যুদ্ধবিরতি চলাকালেও উত্তেজনার রেশ পুরোপুরি কাটেনি। ৭ ও ৮ এপ্রিল সৌদি আরবে পুনরায় ড্রোন হামলা হলে রিয়াদ আবারও পাল্টা আক্রমণের কথা বিবেচনা করে। সেই সংকটময় মুহূর্তে বন্ধুপ্রতীম দেশ পাকিস্তানকে যুদ্ধবিমান পাঠিয়ে সৌদি আরবকে আশ্বস্ত করতে দেখা যায়।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি এক নতুন সমীকরণের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। যদিও সৌদি আরব আনুষ্ঠানিকভাবে এই হামলার খবর অস্বীকার করে শান্তি ও স্থিতিশীলতার ওপর জোর দিচ্ছে, তবে ফাঁস হওয়া এই গোয়েন্দা তথ্য অঞ্চলটির নাজুক নিরাপত্তা ব্যবস্থার প্রকৃত রূপ উন্মোচন করেছে।

