হাবিবুর রহমান হাবিব
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলায় নাওড়া এলাকায় ভূয়া ও জাল কাগজপত্রের মাধ্যমে অন্যের ক্রয়কৃত জমি নিজের নামে নামজারী (খারিজ) করার অভিযোগ উঠেছে এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার নাওড়া মৌজার খারিজ খতিয়ান নং-১৫৯৫, দাগ নং-৯৮৩ এর ১০ শতক জমি নিয়ে এ বিরোধের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী কহিনুর বেগম উপজেলার ধামশ্রেণী এলাকার মৃত মোন্তাজ আলীর মেয়ে।
অপরদিকে অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম একই এলাকার মৃত আব্দুল করিম মিয়ার ছেলে এবং মজারটারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক। ভুক্তভোগী কহিনুর বেগম জানান, তিনি ১৫ ডিসেম্বর ২০০৮ ইং তারিখে ৫৩৮০ নং দলিল এবং পরবর্তীতে ১৭ অক্টোবর ২০২১ ইং তারিখে ৮৬৫০ নং দলিল মূলে জমিটি বৈধভাবে ক্রয় করেন। জমি ক্রয়ের পর থেকে দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ভোগদখল করে আছি।
তিনি আরও অভিযোগ করে বলেন,“আমি বৈধভাবে জমি ক্রয় করে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে আছি। কিন্তু শহিদুল ইসলাম ভূয়া জাল কাগজপত্র তৈরি করে আমার জমি নিজের নামে নামজারী করিয়ে নিয়েছেন। আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করছি।”
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, শহিদুল ইসলাম ১২/২০০৫ নং দলিল ও ০২ এপ্রিল ২০১৯ তারিখের কাগজপত্র দেখিয়ে গত ০১ আগস্ট ২০২৩ ইং তারিখে জমিটি নিজের নামে নামজারী করেন। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী কহিনুর বেগম গত ১০ মে ২০২৬ ইং তারিখে সহকারী কমিশনার (ভূমি), উলিপুর, কুড়িগ্রাম বরাবর নামজারী মামলা নং-২৫১/২০২৩-২৪ বাতিলের আবেদন দাখিল করেছেন। এদিকে বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা তোজাম্মেল হক বলেন, “জমি সংক্রান্ত জালিয়াতি এখন গ্রামাঞ্চলে বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রশাসন নিরপেক্ষ তদন্ত করলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।” এ বিষয়ে ধামশ্রেণী ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা আইয়ুব আলী জানান,“ভুক্তভোগী ওই নারী নামজারী (খারিজ) বাতিলের একটি আবেদন জমা দিয়েছেন,প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে তদন্ত করা হবে। তদন্তে কোনো ধরনের জালিয়াতি বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
তবে অভিযুক্ত শহিদুল ইসলামের বক্তব্য নেওয়ার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, একজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

