মুহাম্মদ মহসিন আলী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার ধজনগর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)-এর ছররা গুলিতে নিহত দুই বাংলাদেশির মরদেহ দীর্ঘ প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর হস্তান্তর করা হয়েছে। শনিবার (৯ মে) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার ক্ষিরনাল সীমান্তের মেইন পিলার ২০৩৬ এলাকায় ব্যাটালিয়ন পর্যায়ের পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে মরদেহ দুটি বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর কাছে ফেরত দেয় বিএসএফ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার গভীর রাতে সীমান্তে একদল ব্যক্তি অবস্থানকালে বিএসএফ সদস্যরা তাদের লক্ষ্য করে ছররা গুলি ছোড়ে। এতে মুরসালিন ও নবীর হোসেনসহ বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ হন। আহতদের মধ্যে অন্তত ২০ জনের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
গুলিবিদ্ধ দুইজনকে ভারতের বিশালঘর মহকুমা হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাদের মৃত্যু হয় বলে বিএসএফ কর্তৃপক্ষ বিজিবিকে জানায়। এ ঘটনায় ৬০ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম শরিফুল ইসলামের পক্ষ থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়, প্রায় ১৫ জন বাংলাদেশি চোরাকারবারী ভারতীয় সহযোগীদের নিয়ে চোরাচালানের উদ্দেশ্যে প্রায় ২০০ গজ ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে। এ সময় বিএসএফের বাধার মুখে উভয়পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয় এবং একপর্যায়ে বিএসএফ সদস্যরা দুই রাউন্ড ছররা গুলি ছোড়ে।
মরদেহ হস্তান্তরের সময় বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন ৬০ বিজিবি ব্যাটালিয়ন (সুলতানপুর)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম শরিফুল ইসলাম এবং কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজনীন সুলতানা। ভারতের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন বিএসএফের ৪৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল অজিত কুমার সিংসহ বিশালঘর থানার কর্মকর্তারা।
বিজিবি জানিয়েছে, এ ঘটনায় বিএসএফকে প্রটেস্ট নোট প্রদান করা হয়েছে। বর্তমানে সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে, তবে ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে এখনও উদ্বেগ বিরাজ করছে।

