লেবাননে চলমান যুদ্ধবিরতির তোয়াক্কা না করেই ফের বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েল। শনিবার (৯ মে ২০২৬) দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ৪০ জন নিহত এবং বেশ কয়েকজন শিশুসহ ১৩ জন আহত হয়েছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) দক্ষিণ লেবাননের বিভিন্ন এলাকায় হামলা চালানোর পাশাপাশি একটি উচ্ছেদ সতর্কবার্তাও জারি করেছে।
হামলায় নিহত ৪০ জনের মধ্যে বেসামরিক নাগরিক ও শিশু রয়েছে বলে জানা গেছে। হামলার আগে আইডিএফ দক্ষিণ লেবাননের ৯টি গ্রাম থেকে বাসিন্দাদের অবিলম্বে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়, যা এলাকায় চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। ইসরায়েল দাবি করেছে, তারা হিজবুল্লাহর সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে।
ইসরায়েলি হামলার জবাবে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহও বড় ধরনের পাল্টা হামলা শুরু করেছে। উত্তর ইসরায়েলের একাধিক শহর লক্ষ্য করে হিজবুল্লাহ অন্তত ২০টি পৃথক হামলা চালিয়েছে। এতে রকেট, কামানের গোলা এবং ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। আইডিএফ স্বীকার করেছে যে, হিজবুল্লাহর এই হামলায় তাদের অন্তত ৩ জন সেনা আহত হয়েছে।
মাঠপর্যায়ে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করলেও পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, চলমান সংকট নিরসনে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে আগামী ১৪ ও ১৫ মে ওয়াশিংটনে দুই দিনব্যাপী এক গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
এবারের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন আন্তর্জাতিক মহলে উত্তেজনা প্রশমনের আশা করা হচ্ছিল। বিশেষ করে আসন্ন ওয়াশিংটন আলোচনার আগে এই ধরণের প্রাণহানি শান্তি প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

