সত্যজিৎ দাস (মৌলভীবাজার):
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে দেশব্যাপী চলমান বিশেষ হাম-রুবেলা (এমআর) টিকাদান ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে সেন্ট মার্থাস কিন্ডারগার্ডেন স্কুল কেন্দ্রে সফলভাবে টিকাদান কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার (৬ মে ২০২৬) সকাল থেকে শুরু হওয়া এ কার্যক্রম দিনব্যাপী শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে পরিচালিত হয়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালিত এ ক্যাম্পেইনে ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বহির্ভূত শিশুদের টিকা প্রদান করা হয়। সবুজবাগ ও দেববাড়ী মহল্লার অন্তর্ভুক্ত এই কেন্দ্রে মোট লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৭ জন শিশু এবং দিনশেষে শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়। এমনকি অতিরিক্ত আরও ৫ জন শিশুকে টিকা প্রদান করা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়,সকাল ৮টা থেকেই অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের নিয়ে কেন্দ্রে উপস্থিত হতে শুরু করেন। বিশেষ করে কর্মজীবী মা-বাবারা সকালেই টিকা সম্পন্ন করে কাজে ফিরতে সচেষ্ট ছিলেন। কেন্দ্রে পর্যাপ্ত এমআর ভ্যাকসিন মজুদ ছিল এবং দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মীরা দ্রুততার সঙ্গে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করেন। শিশুদের বসার ব্যবস্থা এবং টিকা নেওয়ার পর পর্যবেক্ষণের জন্য আলাদা কক্ষও রাখা হয়।
কেন্দ্রটির দায়িত্বপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য সহকারী চামেলী রানী দাস জানান,“আমাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৭ জন শিশু। সকালে অনেক অভিভাবক তাদের সন্তানদের নিয়ে আসেন। পরে উপস্থিতি কমে গেলে স্বেচ্ছাসেবীদের মাধ্যমে মহল্লায় খবর পাঠানো হয় এবং স্থানীয় সাংবাদিকদের সহায়তায় বিকেল ৪টার আগেই শতভাগ লক্ষ্য পূরণ করা সম্ভব হয়। মোট ১২টি ভায়ালের মধ্যে ৫টি ব্যবহার করা হয়েছে। টিকা নেওয়া শিশুদের অভিভাবকদের আমার মোবাইল নম্বর দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো সমস্যা হলে সহজে যোগাযোগ করতে পারেন।”
টিকা নিতে আসা শিশু সাইফান হোসেন আরভী (রুপসপুর),পিতা জাকির হোসেন বলেন,তিনি টিকাদান কার্যক্রমে সন্তুষ্ট এবং পরিবেশকে নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ মনে হয়েছে।
অন্যদিকে,দেববাড়ীর বাসিন্দা শিউলি আক্তার তার ছেলে ইসরাক আহমেদ তাহসিনকে টিকা দেওয়ার পর বলেন,“আগে টিকা নিতে অনেক সময় লাগত,কিন্তু এখানে খুব দ্রুত কাজ হয়েছে। স্বাস্থ্যকর্মীদের ব্যবহারও খুব ভালো। আমার ৫ বছরের ছেলেকে টিকা দিয়ে এখন অনেক নিশ্চিন্ত লাগছে।”
স্বেচ্ছাসেবী ঊষা রানী দেবী বলেন,
“আমরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে অভিভাবকদের সচেতন করেছি এবং শিশুদের কেন্দ্রে আনার জন্য অনুরোধ করেছি। সবার সহযোগিতায় আজকের এই সফলতা সম্ভব হয়েছে।”
এই কেন্দ্রের সফলতার পেছনে স্বেচ্ছাসেবীদের সক্রিয় ভূমিকা এবং স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বিত প্রচেষ্টা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। পাশাপাশি, টিকা-পরবর্তী সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে ভীতি দূর করতে কেন্দ্রে কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছিল।
দেববাড়ী রোডে অবস্থিত সেন্ট মার্থাস কিন্ডারগার্ডেন স্কুলের এই সফল উদ্যোগ পার্শ্ববর্তী অন্যান্য কেন্দ্রের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই পুরো এলাকায় শতভাগ শিশুকে টিকার আওতায় আনা সম্ভব হবে।

