পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে এবার সবচেয়ে বড় অঘটনটি ঘটেছে খোদ কলকাতার বুকে। তৃণমূল কংগ্রেসের অপরাজেয় দুর্গ হিসেবে পরিচিত ভবানীপুর কেন্দ্রে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করেছেন বিজেপির হেভিওয়েট প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। ২০১১ সাল থেকে নিজের এই শক্ত ঘাঁটিতে এবারই প্রথম পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ নিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো।
ভোট গণনার শুরুটা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে থাকলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে উত্তেজনা।সপ্তম রাউন্ড শেষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রায় ১৭,০০০ ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন। ১৪তম রাউন্ডে এসে মমতার লিড ৪,০০০-এর নিচে নেমে আসে এবং শেষ কয়েক রাউন্ডে শুভেন্দু অধিকারী ঝোড়ো গতিতে ব্যবধান কমিয়ে জয় ছিনিয়ে নেন। সবশেষে ১৫,১১৪ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন শুভেন্দু অধিকারী। বিজয় নিশ্চিত হওয়ার পর এক আক্রমণাত্মক বক্তব্যে শুভেন্দু অধিকারী এই জয়কে ধর্মীয় মেরুকরণের ফসল হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন:
“মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করা অত্যন্ত জরুরি ছিল। মুসলিমরা তাঁকে ঢালাওভাবে ভোট দিয়েছে, বিশেষ করে ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডের মতো এলাকাগুলোতে। কিন্তু হিন্দু, শিখ, জৈন ও বৌদ্ধরা আমাকে আশীর্বাদ করেছেন। বাঙালি হিন্দু ছাড়াও গুজরাটি, মারওয়াড়ি ও শিখ ভোটাররা আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এই জয় আসলে অরাজক শাসকের বিরুদ্ধে হিন্দুত্ববাদের জয়।”
তিনি আরও জানান, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কয়েকবার ফোন করে ভবানীপুর নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন, যাঁকে তিনি জয়ের ব্যাপারে আশ্বস্ত করেছিলেন।
নন্দীগ্রামের পর দ্বিতীয়বার শুভেন্দুর কাছে পরাজিত হয়ে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই পরাজয়কে তিনি মেনে নিতে অস্বীকার করে বলেন: নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি মিলে শতাধিক আসন ‘লুট’ করেছে।
তাঁর অভিযোগ, ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে প্রায় ৬০,০০০ ভোটারের নাম উদ্দেশ্যমূলকভাবে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। পরাজয় সত্ত্বেও তিনি আবারও লড়াই করে ঘুরে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।
২০১১ সালে এই ভবানীপুর থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঐতিহাসিক জয়যাত্রার সূচনা হয়েছিল। ২০২৬ সালে এসে সেই কেন্দ্রেই তাঁর পরাজয় তৃণমূল কংগ্রেসের জন্য এক বড় মনস্তাত্ত্বিক ধাক্কা। অন্যদিকে, শুভেন্দু অধিকারীর এই জয় তাঁকে বিজেপির ‘জায়ান্ট কিলার’ হিসেবে আরও শক্তিশালী অবস্থানে নিয়ে গেল।

