পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে এক অভাবনীয় রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটেছে। দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে প্রথমবারের মতো কলকাতার মসনদে বসতে যাচ্ছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। ২৯৪টি আসনের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশেরও বেশি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে গেরুয়া শিবির।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের ২৯৪টি আসনের চূড়ান্ত চিত্র প্রায় স্পষ্ট: বিজেপি ২০৬টি আসনে জয়ী বা এগিয়ে (সরকার গঠনে প্রয়োজন ১৪৮টি)। তৃণমূল কংগ্রেস: ৮১টি আসনে সীমাবদ্ধ। কংগ্রেস (২), এজেইউপি (২), সিপিআইএম (১) এবং এআইএসএফ (১)।
নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশ্যে আসার পর সোমবার সন্ধ্যায় কলকাতায় এক সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভ উগরে দেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই পরাজয়কে তিনি ‘অনৈতিক’ এবং ‘ভোট লুট’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তাঁর অভিযোগ:
“বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশন মিলে ১০০টিরও বেশি আসনে কারচুপি করেছে। নির্বাচন কমিশন এখন বিজেপির কমিশনে পরিণত হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনী, প্রধানমন্ত্রী এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সহায়তায় যা করা হয়েছে তা সম্পূর্ণ অবৈধ। আমরা আবারও ঘুরে দাঁড়াব।”
তৃণমূলের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ডায়মন্ড হারবার ও মগরাহাটের মতো নিশ্চিত জয়ের আসনগুলোতেও শংসাপত্র দিতে দেরি করে কারচুপি করা হয়েছে।
বিজেপির এই ঐতিহাসিক বিজয়কে স্বাগত জানিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (X) পোস্ট করেছেন। তিনি লিখেছেন:
“পশ্চিমবঙ্গে পদ্ম ফুটেছে। এই নির্বাচনের ফলাফল সুশাসনের রাজনীতির জয় হিসেবে ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।”
বিজেপি শিবিরের দাবি, পশ্চিমবঙ্গের মানুষ দীর্ঘদিনের ‘তোষণ নীতি’ ও ‘দুর্নীতি’র বিরুদ্ধে রায় দিয়ে উন্নয়নের পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এবারের নির্বাচনে গ্রামীণ ভোট এবং হিন্দু ভোটব্যাংকের একীকরণ বিজেপির এই বিশাল জয়ের মূল কারিগর। অন্যদিকে, তৃণমূলের দীর্ঘমেয়াদী শাসনবিরোধী জনমত (Anti-incumbency) এবং নিয়োগ দুর্নীতির মতো বিষয়গুলো সাধারণ মানুষের মনে প্রভাব ফেলেছে।
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো প্রভাবশালী নেত্রীকে হটিয়ে বিজেপির এই জয় দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতেও বিশেষ গুরুত্ব বহন করবে।

