মুহাম্মদ আতা উল্লাহ খান:
সমাজের অগ্রযাত্রায় কিছু মানুষ থাকেন, যাদের জীবন ও কর্ম অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে ওঠে। তেমনই একজন ব্যক্তিত্ব লায়ন মো. গনি মিয়া বাবুল—শিক্ষক, সমাজসেবক, সংগঠক, কবি ও কলাম লেখক। তাঁর বহুমাত্রিক কর্মময় জীবন সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
লায়ন মো. গনি মিয়া বাবুল ১৯৭১ সালের ৬ মে গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার টেপিরবাড়ী গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মো. ইসমাইল হোসেন এবং মাতা আয়েশা খাতুন। শৈশব থেকেই তিনি মেধা, অধ্যবসায় ও দৃঢ়চেতা মানসিকতার পরিচয় দেন।
শিক্ষাকে তিনি শুধু ব্যক্তিগত উন্নতির মাধ্যম নয়, বরং সমাজ পরিবর্তনের শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ করেন। এই বিশ্বাস থেকেই তিনি শিক্ষকতা পেশাকে বেছে নেন। শিক্ষক হিসেবে তিনি শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যজ্ঞানই দেন না, বরং নৈতিকতা, মানবিকতা ও মূল্যবোধ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
সমাজসেবায় তাঁর ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। তিনি দীর্ঘদিন ধরে দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে থেকে বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছেন। তাঁর মতে, প্রকৃত সফলতা তখনই পূর্ণতা পায়, যখন তা অন্যের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনে।
সংগঠক হিসেবেও তিনি দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের মাধ্যমে তিনি তরুণদের সংগঠিত করে সমাজ উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর নেতৃত্বগুণ এবং দূরদর্শিতা তাঁকে একজন সফল সংগঠকে পরিণত করেছে।
সাহিত্যচর্চাতেও তাঁর রয়েছে সুদীর্ঘ অবদান। কবিতা, প্রবন্ধ ও কলামের মাধ্যমে তিনি সমাজের বাস্তবতা, অসঙ্গতি এবং মানুষের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরেছেন। তাঁর লেখায় যেমন প্রতিবাদের ভাষা রয়েছে, তেমনি রয়েছে আশার আলো। তিনি ১৯৮০-এর দশক থেকে জাতীয় গণমাধ্যমে লেখালেখি করে আসছেন এবং একাধিক বই প্রকাশ করেছেন।
সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অঙ্গনেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তিনি বিভিন্ন সংবাদপত্র ও সাংবাদিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থেকে পেশাগত উন্নয়ন ও পৃষ্ঠপোষকতায় কাজ করেছেন। তিনি গাজীপুর জেলা রিপোর্টার্স ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান উপদেষ্টা এবং জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার কেন্দ্রীয় পর্যায়ের বিভিন্ন দায়িত্বে ছিলেন।
শিক্ষা, সাহিত্য ও সমাজসেবায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি লায়ন্স ক্লাবস ইন্টারন্যাশনাল কর্তৃক “মেলভিন জোন্স ফেলো (MJF)”সহ অসংখ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।
তিনি গাজীপুরের শ্রীপুরে মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল-কলেজ, শিশু শিক্ষা কেন্দ্র ও পাঠাগারসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা ও উন্নয়নে ভূমিকা রেখেছেন।
৬ মে তাঁর জন্মদিন উপলক্ষে বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালন করবে। সমাজ গঠনে তাঁর অবদানকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে বিভিন্ন মহল থেকে তাঁকে শুভেচ্ছা ও সম্মান জানানো হচ্ছে।
লায়ন মো. গনি মিয়া বাবুলের জীবন আমাদের শেখায়—সাফল্য কেবল ব্যক্তিগত অর্জনে সীমাবদ্ধ নয়, বরং সমাজের কল্যাণে নিজেকে নিবেদনের মধ্যেই প্রকৃত অর্থ খুঁজে পাওয়া যায়।

