সত্যজিৎ দাস:
উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় নতুন করে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি দেখা দিয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, হবিগঞ্জ জেলার সুতাং নদীর পানি এক দিনে ২৪ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৬০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
একই সময়ে নেত্রকোনা জেলার ভুগাই-কংশ, সোমেশ্বরী ও মগরা নদীর পানি বিপৎসীমার ২৭ থেকে ৮৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। তবে স্বস্তির খবর হচ্ছে,গত ২৪ ঘণ্টায় এই তিনটি নদীর পানির উচ্চতা কিছুটা কমেছে।
এদিকে সুনামগঞ্জ এর হাওড়াঞ্চলে নদীগুলোর পানি প্রতি ঘণ্টায় ১ থেকে ২ সেন্টিমিটার হারে বাড়ছে। নলজুর নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় ১৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ২৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করায় সুনামগঞ্জ,নেত্রকোনা ও হবিগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চল ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়েছে। তলিয়ে গেছে হাওড়ের বোরো ধানসহ বিভিন্ন ফসল ও সবজি ক্ষেত,ফলে কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
অন্যদিকে,সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকার পানি গত ২৪ ঘণ্টায় দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে,আজকের মধ্যেই কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলে নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
এছাড়া নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ জেলার ধনু-বাউলাই নদীতেও পানি বাড়ছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী,আগামী দুই দিনে সুরমা-কুশিয়ারা, ধনু-বাউলাই,হবিগঞ্জের কালনি ও সুতাং এবং মৌলভীবাজার জেলার জুড়ি ও মনু নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পেতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন,২৪ ঘন্টার মধ্যেই জুড়ি,কালনি,বাউলাই ও কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে। এতে এসব নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি হতে পারে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি পানি বৃদ্ধি পেয়েছে সুতাং নদীতে (২৪ সেন্টিমিটার) এবং নলজুর নদীতে (১৮ সেন্টিমিটার)। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

