মোঃ শরিফ বিল্লাহ, ডোমার উপজেলা প্রতিনিধি:
নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় পারিবারিক সম্পর্কের আড়ালে প্রতারণা ও মানবিক বিপর্যয়ের একটি ঘটনা আলোচনায় এসেছে। অভিযোগ উঠেছে, মানসিকভাবে অসুস্থ এক যুবকের পৈতৃক জমি ও বসতভিটা কৌশলে আত্মসাত করেছেন তার নিকটাত্মীয়রা।
সবকিছু হারিয়ে বর্তমানে ওই যুবক স্থানীয় কবরস্থানে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
উপজেলার পূর্ব চিকনমাটি (হুজুরপাড়া) এলাকার বাসিন্দা ময়নুল ইসলাম পারিবারিক বিপর্যয়ের পর মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, কয়েক বছর আগে মায়ের মৃত্যু ও দাম্পত্য বিচ্ছেদের পর তার মানসিক অবস্থার অবনতি ঘটে।
অভিযোগ রয়েছে, এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে তার চাচা কছির উদ্দিন ও চাচাতো ভাই আঃ ছালাম জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় ২০ লাখ টাকা মূল্যের জমি নিজেদের নামে লিখে নেন। পরে ময়নুলকে তার নিজ বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়।
আশ্রয়হীন হয়ে পড়া ময়নুল স্থানীয় কবরস্থানে বসবাস শুরু করেন। এলাকাবাসীর সহায়তায় সেখানে একটি অস্থায়ী ঘর তৈরি করা হলেও সেটিও ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে তিনি পলিথিন টাঙিয়ে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছেন।
ময়নুলের বাবা কফিল উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, তার অজান্তেই ছেলের সম্পত্তি হস্তান্তর করা হয়েছে এবং তিনি এ ঘটনার বিচার দাবি করেন। ভুক্তভোগী ময়নুলও দাবি করেন, তাকে জোরপূর্বক কিছু কাগজে স্বাক্ষর করানো হয়েছিল, যার মাধ্যমে তার সম্পত্তি হাতছাড়া হয়।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ঘটনাটিকে গুরুতর বলে উল্লেখ করেছেন। তাদের মতে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। একই মত জানিয়েছেন এলাকার ধর্মীয় নেতারাও, যারা ঘটনাটিকে অমানবিক বলে আখ্যা দিয়েছেন।
ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, অভিযোগটি তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযুক্তদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় এলাকাবাসী দ্রুত তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, এমন ঘটনা সমাজে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে এবং দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।

