হাওরের জলাবদ্ধতা নিরসন, অকাল বন্যায় ফসলহানিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ এবং হাওর সমস্যার স্থায়ী সমাধানে বিজ্ঞানসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবিতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২ মে) সকালে ‘হাওর অঞ্চলবাসী, ঢাকা’র উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, চলতি বোরো মৌসুমে মার্চের মাঝামাঝি থেকে এপ্রিলের শেষ পর্যন্ত তিন দফা বৃষ্টি ও কয়েকটি হাওরের বাঁধ ভেঙে অন্তত ৪৫ হাজার হেক্টর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া শিলাবৃষ্টিতে আরও প্রায় ৮০০ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তারা বলেন, হাওরাঞ্চলের মানুষের প্রধান জীবিকা বোরো ফসল। ফসলহানির কারণে কৃষকরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। বৃষ্টির কারণে কাটা ধান শুকানো যাচ্ছে না, অনেক ধান পচে যাচ্ছে এবং মাড়াই করা ধান পানিতে ভেসে যাচ্ছে।
বক্তারা অভিযোগ করেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে অতিবৃষ্টি এবং অপরিকল্পিত ফসল রক্ষা বাঁধের কারণে জলাবদ্ধতা বেড়েছে। কোনো বৈজ্ঞানিক সমীক্ষা ছাড়াই বাঁধ নির্মাণ করায় দুর্নীতি ও অনিয়মের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
মানববন্ধন থেকে ৭ দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর ব্যবস্থা, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের খাদ্য সহায়তা, নদী-খাল-বিল খনন, অপরিকল্পিত সড়ক ও বাঁধ নির্মাণ বন্ধ, বিজ্ঞানসম্মত গবেষণা, প্রয়োজনীয় স্থানে ফ্লুইস গেট নির্মাণ, বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতির বিচার এবং কৃষি ও এনজিও ঋণের কিস্তি মওকুফ।
বক্তারা বলেন, হাওরের ফসলহানি মানেই মানবিক বিপর্যয়। তাই সরকার ও সংশ্লিষ্ট সব মহলকে দ্রুত হাওরবাসীর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তারা।
মানববন্ধনে বিভিন্ন পেশাজীবী, গবেষক, আইনজীবী ও হাওর অঞ্চলের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।

