রাজধানীর ধানমন্ডিতে অবস্থিত BMSRI ট্রাস্ট এবং সংশ্লিষ্ট Bangladesh Medical College Hospital-কে কেন্দ্র করে দখলচেষ্টার অভিযোগে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। ২৮ এপ্রিল দুপুরে সংঘটিত এ ঘটনাকে ঘিরে শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নিয়মবর্হিভুতভাবে ডা দোলন ও ডা ডোনারের বিএমএসআরআই ট্রাস্টের দখল ও নিয়ন্ত্রণ অপচেষ্টা নিয়ে সাম্প্রতিক এই পরিস্থিতির উদ্ভব হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, উত্তরা আধুনিক ও গাজীপুর এলাকা থেকে বহিরাগত লোকজন এনে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চালানো হয়। এ সময় উপস্থিত শিক্ষার্থীরা তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ গড়ে তোলে। শিক্ষার্থীদের তীব্র প্রতিরোধের মুখে ওই ব্যক্তিরা ক্যাম্পাস ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাসে চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ডা. দোলন ও ডা. ডোনার BMSRI ট্রাস্টি বোর্ডের কোনো সদস্য বা অংশ না হওয়া সত্ত্বেও নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠানের প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমে নিয়মবহির্ভূতভাবে হস্তক্ষেপ ও দখলের চেষ্টা করে আসছেন। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এখানে কোনো বৈধ দ্বন্দ্বমান পক্ষ নেই; বরং কর্তৃত্ববহির্ভূত হস্তক্ষেপের মাধ্যমেই পরিস্থিতি জটিল করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় সাবেক চেয়ারম্যান মেজবার ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ বলে অভিযোগ উঠেছে। তিনি কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাকের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। একই সঙ্গে ডা. মুস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধেও গুরুতর অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি একযোগে Bangladesh Medical University এবং Bangladesh Medical College Hospital ও বিএমএসআরআই-এ কর্মরত থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে দুই প্রতিষ্ঠান থেকে বেতন গ্রহণ করছেন, যা প্রচলিত বিধি অনুযায়ী অবৈধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
এছাড়া প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ও BMSRI ট্রাস্টি বোর্ডকে পাশ কাটিয়ে তাদের অপসারণের লক্ষ্যে পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত চালানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে করে প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক শিক্ষা ও চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে প্রতিষ্ঠানটির স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বর্তমান মন্ত্রী রবিউল আলমের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সংশ্লিষ্ট মহল। তারা দ্রুত প্রশাসনিক ও আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার দাবি জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছেন, একটি স্বনামধন্য শিক্ষা ও চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের সুনাম রক্ষায় নিরপেক্ষ তদন্ত এবং স্বচ্ছ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।

