পাবনার ঈশ্বরদীতে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে জ্বালানি লোডিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের চূড়ান্ত ধাপে প্রবেশ করল বাংলাদেশ এবং বিশ্বের ৩৩তম পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী দেশের তালিকায় স্থান করে নিল।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি দেশের জ্বালানি খাতে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চলতি বছরের শেষ নাগাদ প্রথম ইউনিট থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে।
চুক্তি অনুযায়ী, প্রথম তিন বছরের জন্য প্রয়োজনীয় পারমাণবিক জ্বালানি সরবরাহ করবে রাশিয়া। এরপর বাংলাদেশকে নিজ উদ্যোগে ইউরেনিয়াম আমদানি করতে হবে। একবার জ্বালানি লোড করার পর প্রায় দেড় বছর পর্যন্ত ইউনিটটি চালানো যাবে। পরে ধাপে ধাপে এক-তৃতীয়াংশ জ্বালানি পরিবর্তন করা হবে।
রূপপুর প্রকল্পের প্রথম ইউনিটের নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর এবং দ্বিতীয় ইউনিটের কাজ শুরু হয় ২০১৮ সালের ১৪ জুলাই। দুটি ইউনিট সম্পূর্ণ চালু হলে জাতীয় গ্রিডে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যোগ হবে, যা দেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রায় ১২ শতাংশ সরবরাহ করতে সক্ষম হবে।
১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দ্বিতীয় ইউনিটে চলতি বছরের শেষ দিকে জ্বালানি লোডিং শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
বিদ্যুৎকেন্দ্রটির স্বাভাবিক আয়ুষ্কাল ধরা হয়েছে ৬০ বছর। প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণ ও আধুনিকায়নের মাধ্যমে আরও ৩০ বছর পর্যন্ত এর কার্যক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব।
প্রায় ১ লাখ ১৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন রূপপুর প্রকল্পটি দেশের সবচেয়ে বড় একক অবকাঠামো প্রকল্পগুলোর একটি। এর ৯০ শতাংশ অর্থায়ন করছে রাশিয়া, যা ২৮ বছরে পরিশোধ করতে হবে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান রোসাটম প্রকল্পটির নির্মাণ ও প্রযুক্তিগত তত্ত্বাবধানে রয়েছে।

